আজ - বুধবার, ২২ আগস্ট, ২০১৮ ইং | ৭ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ: 

আইনজীবীর প্রতিক্রিয়া খালেদা জিয়ার ৭ বছরের কারাদ- চাইল দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদক : জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাত বছরের কারাদ- চেয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কারা অধিদপ্তরের প্যারেড গ্রাউন্ডে অবস্থিত বিশেষ জজ আদালত ৫-এ যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে তিনি এ দাবি করেন। এ সময় তিনি আদালতে ৩২ জন আসামির সাক্ষ্য গ্রহণের বিষয় এবং মামলার সারমর্ম তুলে ধরেন। আদালতে দুদকের এই আইনজীবী বলেন, ‘২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় এ ট্রাস্ট গঠন করেছেন। তিনি যেহেতু প্রধানমন্ত্রী ছিলেন সেহেতু তিনি আর ব্যক্তি নন, তিনি একটি প্রতিষ্ঠান। কোনো ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী পদে থাকা অবস্থায় ট্রাস্ট গঠন করতে পারেন না। কারণ তিনি ১৬ কোটি মানুষের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। আর এ কারণেই তিনি ব্যক্তিগত স্বার্থে ট্রাস্ট গঠন করতে পারেন না। এই ট্রাস্ট গঠনের সময় সোনালী ব্যাংকে যে হিসাব খোলা হয়েছে, সেখানে খালেদা জিয়া তাঁর প্রধানমন্ত্রী পদ গোপন করেছেন। কিন্তু তিনি ঠিকানা হিসেবে ব্যহার করেছেন তৎকালীন মঈনুল রোডের বাড়ির ঠিকানা।’ রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী আরো বলেন, ‘খালেদা জিয়া ট্রাস্ট আইন ভঙ্গ করেছেন। এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে চারবার চিঠি দেয়া হলেও তিনি এর কোনো উত্তর দেননি। পরে অবশ্য স্বীকার করে নিয়েছেন, ট্রাস্ট আইন অনুযায়ী জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট হয়নি। এই অভিযোগে সংবিধান অনুযায়ী খালেদা জিয়ার সাত বছরের কারাদ- হতে পারে।’ মোশাররফ হোসেন কাজল আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া যে উদ্দেশ্যে ট্রাস্ট গঠন করেছেন, পরবর্তী সময়ে তা টাকা সংগ্রহের মধ্য দিয়ে তা প্রাইভেট ট্রাস্টে পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এপিএস হারিস চৌধুরী, পিএস ড. জিয়াউল ইসলাম মুন্না তাঁরাও সরকারি পদে ছিলেন। ট্রাস্টে তাঁরা সরকারি পদ ব্যবহার করতে পারেন না।’ এ প্রসঙ্গে বেগম জিয়ার পক্ষে অন্যতম আইনজীবী জয়নাল আবেদীন বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রনোদিত এ মামলায় সরকার পক্ষ আইন দিয়ে অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়ে অনেকটা গায়ের জোরে বেগম জিয়াকে সাজা দিতে চাচ্ছে।
আদালতে মামলার অন্যতম অভিযুক্ত মনিরুল ইসলামের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে বলেন, প্রসিকিউশেনের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। কোনো অবৈধ উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের কথা কোনো সাক্ষী বলেননি। এটি রাজনৈতিক প্রসহনমূলক মামলা। দেশে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হচ্ছে, পাচার হচ্ছে, সেখানে দেশের একজন শীর্ষ রাজনীতিবিদকে মিথ্যা মামলায় হয়রানি করা হচ্ছে। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার যুক্তিতর্ক গতকাল থেকে শুরু হয়েছে। ৫ নম্বর বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে এ মামলায় যুক্তিতর্ক শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে আদালতে হাজির হন বিএনপির প্রধান। রাষ্ট্রপক্ষে মোশাররফ হোসেন কাজল দুপুর ১২টা ১১ মিনিটে যুক্তিতর্কের কাজ শুরু করেন। তিনি বক্তব্য উপস্থানের একপর্যায়ে আদালত দুপুরের বিরতি দেন। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০০৫ সালে কাকরাইলে সুরাইয়া খানমের কাছ থেকে ‘শহীদ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’-এর নামে ৪২ কাঠা জমি কেনা হয়। কিন্তু জমির দামের চেয়ে অতিরিক্ত এক কোটি ২৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা জমির মালিককে দেওয়া হয়েছে বলে কাগজপত্রে দেখানো হয়, যার কোনো বৈধ উৎস ট্রাস্ট দেখাতে পারেনি। জমির মালিককে দেওয়া ওই অর্থ ছাড়াও ট্রাস্টের নামে মোট তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা অবৈধ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১০ সালের ৮ আগস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের নামে তেজগাঁও থানায় দুর্নীতির অভিযোগে এ মামলা করেছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক হারুন-অর রশিদ।


প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০১৮, ৮:০১:৩১ পুর্বাহ্ন



 
Advertise