আজ - শুক্রবার, ২৫ মে, ২০১৮ ইং | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ: 

একুশে বইমেলায় দর্শক ও ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়

খুলনা অফিস: একুশে বইমেলা, খুলনায় দিন দিন বাড়ছে বই ও সংস্কৃতিপ্রেমী ক্রেতা দর্শকদের উপস্থিতি। গতপরশু ছিল একুশে বইমেলা, খুলনা’র ৯ম দিন। দিনটি সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় বইমেলায় ক্রেতা দর্শকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। তবে বইমেলায় ভিআইপিদের সর্বাধিক উপস্থিতি ছিল। কারণ হিসেবে জানা যায়, মহিলা পুলিশ কর্মকর্তার বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তারা এসেছেন। তাদর আগমনে বইমেলার সমৃদ্ধি আরো কয়েকগুণ বেড়ে যায়। নিরাপত্তাও ছিল চোখে পড়ার মত। বিগত দিনে গেটে তল্লাশি করে দর্শক প্রবেশ করানোর বিষয়টি চোখে না পড়লেও শুক্্রবার তল্লাশির বিষয়টি ছিল অনেকটা দায়িত্বশীল ভূমিকার মত।
বিকেল ৪টায় বইমেলার মঞ্চে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি এবং ছোটগল্পকার সোনালী সেন এর ১ম গল্পগ্রন্থ “কন্যাকাহ” এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হুমায়ূন কবীর পিপিএম এর সভাপতিত্বে মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনার বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া, সরকারি বিএল কলেজ, খুলনার অধ্যক্ষ সৈয়দ সাদিক জাহিদুল ইসলাম, খুলনা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর রওশন আকতার, সরকারি এম এম সিটি কলেজ, খুলনার অধ্যক্ষ প্রফেসর সালমা পারভীন এবং খুলনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ ফারুক আহমেদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগার, খুলনার লাইব্রেরিয়ান এবং একুশে বইমেলা, খুলনার সদস্য সচিব ড. মোঃ আহছান উল্যাহ। অনুষ্ঠানে নিজ বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের অনুভূতি ব্যক্ত করেন লেখিকা সোনালী সেন।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, নারী ক্ষমতা ধরে রাখতে ব্যালেন্স করতে হবে। কারণ সমাজে এখন পুরুষরাও নির্যাতিত হচ্ছে। বিগত দিনের চেয়ে এখন নারী নির্যাতন তুলনামূলকভাবে কমেছে। সমাজের সকলের দৃষ্টিভঙ্গি সামগ্রীকভাবে পরিবর্তন করতে হবে। পরস্পরের আস্থা ও বিশ্বাসকে আরও সমৃদ্ধ করতে হবে। নারীকে পারেনি আমেরিকায় প্রধানমন্ত্রী করতে, কিন্তু বাংলাদেশ তা করে দেখিয়ে দিয়েছে। সমাজে সভ্যতা বিকাশে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে বই। বই পড়ে কেউ কখনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। বরং উপকারী বন্ধুর মত কাজ করেছে বই।
মেলায় দর্শক-ক্রেতার উপচে পড়া ভিড়ের মাঝে স্টল মালিকদের সাথে কথা বলা ছিল অনেকটা কষ্টকর। আছিয়া বুক হাউজের স্বত্বাধিকারী কে এম তুহিন বাবু জানান, তার স্টলে রকিব হাসানের লেখা দু’টি বই এসেছে। চাহিদাও ভাল। তার স্টলে ৩০% ছাড় মূল্যে বই বিক্রি করা হচ্ছে। রূপা বাড়ৈ। একজন কবি। বেশ কয়েক বছর ধরে কবিতা লিখছেন। ইতোমধ্যে তার লেখা দু’টি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। স্টলে বিক্রি শুরু হলেও তিনি মোড়ক উন্মোচন করতে সাহস পাননি। তার দু’টি বই হলো-ছায়াতে প্রাণের পদ চিহ্ন ও ভালবাসা যখন কবিতা হয়ে যায়। তিনি প্রচার বিমুখ কবি। তিনি বলেন, কবি হওয়া বড়ই কঠিন কাজ। তারপরও লিখছি। গাঙচিল সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা খান আক্তার হোসেন বলেন, আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি মেলা মঞ্চে দিনব্যাপী তাদের অনুষ্ঠানমালা থাকবে। ওই দিন পরিষদের ৭৭তম কবি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে রেজিস্ট্রেশনের কাজ শুরু হয়েছে। ওই দিন ৮২টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হবে বলে তিনি জানান। সরকারি চাকরিজীবী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। পুরো পরিবার নিয়ে ছুটির দিনে মেলা মাঠে হাজির হয়েছেন। সবাই বই কিনতে ব্য¯ত। তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার দর্শক সমাগম বেশি হয়েছে। মেলা মাঠের পরিবেশটাও ভাল। বুক পয়েন্ট স্টলের প্রতিনিধি ভাস্কর সাহা বলেন, প্রচার প্রচারণা কম হওয়ায় এবার দর্শক আগমন তুলনামূলকভাবে কম হচ্ছে। একুশের আলো-খুলনার পরিচালক মাহবুবুল হক স্বপরিবারে মেলায় আসেন। তার রক্তের শ্রেণি নির্ণয় স্টলেও দর্শক ছিল চোখে পড়ার মত। তিনি বলেন, শুক্রবার শতাধিক ব্যক্তির রক্তের শ্রেণি নির্ণয় করা হয়। বিগত দিনের চেয়ে শুক্রবার এ পরিসংখ্যান ছিল সবচেয়ে বেশি বলে তিনি জানান।
পরবর্তীতে আবৃত্তিকুঞ্জের বাচিক শিল্পীদের পরিবেশনায় আবৃত্তি অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিশেনায় ছিল নগর নাট্যদল, খুলনা এবং সুরছন্দের শিল্পীবৃন্দ। প্রচুর দর্শকশ্রোতা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন এস এম হুসাইন বিল্লাহ, অ্যাড. আরিফা খাতুন এবং হিমাংশু বিশ্বাস।


প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১২:০২:২৬ অপরাহ্ন



 
Advertise