আজ - শুক্রবার, ২৫ মে, ২০১৮ ইং | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ: 

মধ্যস্থতায় প্রণব মুখার্জী বিজেপির সঙ্গে দূরত্ব কমানোর উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের পরীক্ষিত, অকৃত্রিম বন্ধু ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী। প্রণব মুখার্জী এখন রাষ্ট্রপতি নন। কিন্তু তা সত্ত্বেও অভিজ্ঞ, প্রাজ্ঞ এই প্রবীণ রাজনীতিকের অসামান্য প্রভাব রয়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপিতে, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপর। জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে বিজেপি কংগ্রেসহ সকল দলের অভিন্ন সুরে কথা বলা ও কাজ করার ঐতিহ্য ভারতের রয়েছে।
বাংলা সাহিত্য সম্মেলনে যোগ দিতে প্রণব মুখার্জী বাংলাদেশে এসেছিলেন পাঁচ দিনের সফরে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করেন এবং তাঁরা একান্তে কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষে এই প্রথম ছিল তাঁর বিদেশ সফর। সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এবং কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামনে জরুরি হয়ে দেখা দিয়েছে নয়াদিল্লির মোদি সরকারের নিরঙ্কুশ সমর্থন নিশ্চিত করা। দৃশ্যত বিজেপি ও মোদি সরকার শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ বিরোধী নয়। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বাংলাদেশ সফরকালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠক শেষে তিনি বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা, তা সমৃদ্ধ করা এবং সকল দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনের ব্যাপারে ভারতের আকাক্সক্ষার কথা বলেছেন। খালেদা জিয়া দ-িত হওয়ার পর ভারতের সহযোগিতা লাভে সক্রিয় বিএনপি নেতারা।
এদিকে দেশের অন্যতম রাজনৈতিক প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত কিনা। দলটির কোন নেতাই তা নিশ্চিত করতে পারছেন না। স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ আন্দোলনের পাশাপাশি নির্বাচনের প্রস্তুতির কথাও বলেছেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টিই বিএনপির সামনে বড় কার্ড। প্রধান নির্বাচন কমিশনার হঠাৎ করেই তাৎপর্যপূর্ণভাবে বলেছেন যে, বিএনপির অংশগ্রহণ ছাড়া ক্রেডিবেল নির্বাচন হতে পারে না। নির্বাচনে অংশ নেয়ার পূর্বশর্ত হিসেবে বিএনপি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি করেছে। বিএনপির অংশগ্রহণহীন বা খ-িত বিএনপিকে নিয়ে নির্বাচনের প্রতি ভারতসহ আন্তর্জাতিক শক্তির সমর্থনের প্রশ্ন রয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে বিজেপির সাথে বিশ্বাসযোগ্য আস্থাশীল সম্পর্ক গড়ে তোলার জোর প্রয়াস চলছে গত এক বছর ধরেই। বিএনপির দিক থেকে ভবিষ্যতে ভারতের রাষ্ট্রীয় অখ-তা বিনষ্টকারী কোন শক্তিকে কোনভাবে সহায়তা না করা এবং বাংলাদেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা, তাদের স্বার্থরক্ষাসহ দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক উন্নয়ন কর্মকা- চলমান রাখা ও এসবের সম্প্রসারণের পূর্ণ আশ্বাস দেয়া হয়েছে।
অপরদিকে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বিশাল অংকের অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতা চুক্তি ভারত স্বস্তিদায়ক হিসেবে নিয়েছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করতে পারছে না। পদ্মা সেতু নির্মাণে চীনের আর্থিক, কারিগরি সহযোগিতা, পায়রা সমুদ্রবন্দর নির্মাণে চীনের মোটা অংকের ঋণ, দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে রেল সংযোগের জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকার ঋণসহ বড় বড় বেশ কয়েকটি প্রকল্পে চীনের বিনিয়োগ আসছে। বাংলাদেশ অবশ্য দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার স্বার্থেই এই সহযোগিতা নেয়ার কথা বলেছে। একই তাগিদে ভারত থেকেও সর্বশেষ দুই বিলিয়ন সহজ শর্তে ঋণ নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে দৃঢ়তার সাথেই বলা হয়েছে চীন বা তৃতীয় কোন দেশের সাথে উন্নত সম্পর্ক গড়ে উঠলে তা কোনভাবেই গভীর মৈত্রী ও আস্থার উপর সুপ্রতিষ্ঠিত ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক প্রভাবিত করবেনা। তারপরও একটা সংশয় কাজ করছে সরকারের মধ্যে। এই সংশয় থেকেই উত্তরণে প্রণব মুখার্জী সহায়তার হাত প্রসারিত করেছেন। নরেন্দ্র মোদির উপর প্রণব মুখার্জীর যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। তাঁর প্রজ্ঞা, সুদূরপ্রসারি চিন্তাপ্রসূত সুপারিশ নরেন্দ্র মোদি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। আগামীতে ক্ষমতার পরিবর্তন হলে সরকার চীনের উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে উঠবে, জামায়াত শরিক থাকায় জঙ্গি, আইএস কানেকশন অনেক বেশি ক্রিয়াশীল হবে Ñ প্রভৃতি বিষয় সামনে এনে মোদি এবং বিজেপিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। একই উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আগামী মাসে নয়াদিল্লি যাচ্ছেন। বিজেপি প্রধান রাম যাধবসহ দলের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নেতার সাথে বৈঠক করবেন তিনি। এসব ব্যাপারেও প্রণব মুখার্জী পরামর্শ, সহযোগিতা রয়েছে বলে জানা যায়।
 


প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১০:০২:২২ পুর্বাহ্ন



 
Advertise