আজ - রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ২ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ: 

সরকারের টার্গেট বিএনপিকে নির্বাচনমুখি করা

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী নির্বাচন ও ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে সরকার এক মহাপরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। আওয়ামী লীগের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপিকে পারিবারিক নেতৃত্বশূন্য করার পরিকল্পনা আপাতত সফল বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। খালেদা জিয়ার মুক্ত জীবনে আসা সম্ভব নাও হতে পারে। কারণ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার পরও চেরিট্যাবল ট্রাস্ট মামলা শেষ পর্যায়ে। চৌদ্দগ্রামে বাসে পেট্রোলবোমা হামলায় নিরীহ যাত্রীদের প্রাণহানীর ঘটনায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমান অভিযুক্ত। কয়েক মাসের মধ্যেই রায় হয়ে যাবে। তাতে তার ক্যাপিটাল পানিসমেন্ট হলেও বিস্ময়ের হবেনা। এমনি অবস্থায় বিএনপি নির্বাচনে যাবে কিনা, গেলে কাদের নেতৃতে কিভাবে অংশ নেবে আর না গেলে ভবিষ্যতে সরকারের অব্যাহত দমন নিপীড়নের সামনে জাতীয়তাবাদী শক্তি হিসেবে টিকে থাকতে পারবে কিনা সে প্রশ্ন এসেছে। আঁধারে ঢাকা বর্তমান থেকে উত্তরণে দলীয়ও সমমাননাদের নিয়ে অহিংস পথে থেকে নির্বাচনে যাওয়ার কথাই ভাবা হচ্ছে।
বিএনপির একাধিক নেতৃস্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দলটির মাঠের নেতা-কর্মীরা যাতে ক্রমান্বয়ে হতাশ ও নিষ্ক্রিয় হয়ে না পড়ে সেদিকে সতর্ক থেকেই তারা জনসভা ও নির্বাচনমুখী কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। খালেদা জিয়ার জামিন না হলে এবং নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ না পেলে যৌথ নেতৃত্বে দল পরিচালনা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। তারেক রহমান জেষ্ঠ্য নেতাদের সাথে সম্মানজনক আচরণ করে তাদের বুদ্ধি পরামর্শকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েই সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন। একই সাথে তিনি তরুণ নেতাদের সামনে টেনে আনছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে তাদের অধিকতর গুরুত্ব দিচ্ছেন। যা সিনিয়র নেতাদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে। বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের ঘটনাই এ ক্ষেত্রে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। দলের তরুণ আইনজীবী নেতারা সিনিয়র আইনজীবী নেতাদের কোন রকম তোয়াক্কা না করেই আবেদন করেন। সিনিয়রদের ঘেষতেই দেননি। এতে তারা দারুণভাবে অসম্মানিত বোধ করেন। তরুণ আইনজীবীদের মারাত্মক কিছু ভুলের কারণে জামিন আবেদনই আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য হয়নি। পরবর্তীতে এই তরুণ আইনজীবীরা কারাগারে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে জামিন আবেদন সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনার জন্য সাক্ষাতপ্রার্থী হন। খালেদা জিয়া তাদের সঙ্গে দেখা করতেই অস্বীকৃতি জানান। দেড় ঘণ্টা বসে থেকে তারা ফিরে আসেন। এ দিকে সিনিয়র আইনজীবী নেতাদের সকলকে বিশ্বাস করতে পারছেন না বিএনপি হাই কমান্ড। ক্যান্টনমেন্টের বাসার ব্যাপারে এরাই বেগম খালেদা জিয়াকে ভুল পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। দলের স্বার্থে খালেদা জিয়াকে জামিনে বের করে আনা ও উচ্চ আদালতের আপিল সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হলেও বিএনপির শীর্ষস্থানীয় ও তরুণ নেতাদের পারস্পরিক আস্থাহীনতা সংকট বাড়িয়ে তুলেছে। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ জমিরউদ্দিনসহ সিনিয়র নেতাদের অনেকেই নির্দেশিত না হলে নিজেরা উদ্যোগী হয়ে ভূমিকা নেয়া থেকে বিরত রয়েছেন।
এ’দিকে সরকার নির্বাচনী তৎপরতা জোরেসোরে শুরু করার প্রক্রিয়া করছে। খালেদা জিয়া জেলে থাকলেও বিএনপিকে দলগতভাবে নির্বাচনে আনার প্রক্রিয়াও চলছে। তাদের নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ করে দিতে সরকারের দিক থেকে দৃশ্যমানভাবে বেশকিছু ছাড় দেয়া হতে পারে। নির্বাচনকালীন ছোট আকারের সরকারে বিএনপির সম্মানজনক প্রতিনিধিত্বের প্রকাশ্য প্রস্তাব দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিএনপির দাবি অনুযায়ী সহায়ক সরকার না হলেও সরকারের এই প্রস্তাবসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা পাবে বলেই সরকারি মহল মনে করেন। নির্বাচনের আগে থেকেই এবং তফসিল ঘোষণার পর থেকে মন্ত্রী, এমপিদের ভূমিকা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা বিএনপিসহ বিরোধী দলীয় প্রার্থীদের সমান সুযোগ দেয়া, মন্ত্রীদের পরোক্ষভাবেও কোন প্রার্থীর পক্ষে ন্যূনতম প্রভাব সৃষ্টিকারি ভূমিকা থেকে বিরত রাখা, নির্বাচনকালে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা ব্যাপকভাবে দৃশ্যমান করা, প্রশাসনকে নিরপেক্ষ রাখা, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা হবে। যাতে দেশি-বিদেশি কোন মহল নির্বাচন কমিশন ও সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ না পায়। এই প্রক্রিয়ায় বিএনপির শীর্ষস্থানীয় ও জনপ্রিয় অনেক নেতাকে বিজয়ী হতে দেখা গেলে বিস্ময়ের হবেনা।
এ’দিকে বিএনপি সকল মহানগরে জনসমাবেশের কর্মসূচি নিয়েছে। পরবর্তী ধাপে প্রত্যেক জেলা ও নির্বাচনী এলাকা ভিত্তিক জনসমাবেশ করা হবে। স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মহাসচিব এসব জনসমাবেশে উপস্থিত থাকবেন। ঢাকা এবং দেশের অন্যান্য স্থানে সকল কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের জন্য শীর্ষনেত্রী খালেদা জিয়ার সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। কর্মসূচি সফল করতে সরকারিভাবেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়া হবে। বিএনপি কৌশল নিয়েছে অহিংস শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে ব্যাপক জনগণের সমর্থন, সহানুভূতি অর্জনের। বিএনপিকে নির্বাচনমুখি করাই সরকারের মুখ্য উদ্দেশ্য। ২০ দলীয় জোটভুক্ত অপরাপর অধিকাংশ দল বিএনপি অংশ না নিলেও নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে। যা বিএনপির জন্য প্র”ন্ড হুমকি হয়েও উঠতে পারে। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সাজানো মামলায় দন্ডিত করা হয়েছে অভিযোগ এনে বিএনপি তাঁর মুক্তির দাবিতে জনমত সংগঠিত করার পাশাপাশি নির্বাচনী প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমও সমানতালে চালাবে। জনসমাবেশগুলোতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেয়া ও বক্তব্য রাখার সুযোগ দেয়া হবে।
বেগম খালেদা জিয়া দন্ডিত হয়ে জেলে যাওয়ার পর ঢাকাসহ দেশব্যাপী ব্যাপক গোলযোগের আশঙ্কা করা হয়েছিল। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া তেমন কিছু হয়নি। বিএনপি খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জোরালো আন্দোলনের কথা বললেও বাস্তবে তার লক্ষ্যণ দেখা যাচ্ছেনা। তবে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে বিএনপি জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। সরকার চেষ্টা করছে সকল দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠানের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের।


প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০১৮, ১২:০৩:৫৯ অপরাহ্ন



 
Advertise