আজ - শনিবার, ২৩ জুন, ২০১৮ ইং | ৯ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ: 

ক্লান্ত অবস্থায় যা করবেন না

নিউজ ডেস্ক : শরীরে ক্লান্তি ভর করলে কোনো কাজ সঠিকভাবে সম্পাদন করা কঠিন হতে পারে, সিদ্ধান্ত বা কাজে ভুল হতে পারে এবং অন্যান্য সমস্যা হতে পারে। এ প্রতিবেদনে ক্লান্ত অবস্থায় করা উচিত নয় এমন ১০টি কাজের উল্লেখ করা হলো।
* পূর্ণোদ্যমে ব্যায়াম করবেন না
নিউ ইয়র্ক সিটির সনদপ্রাপ্ত পার্সোনাল ট্রেইনার এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত স্পোর্টস নিউট্রিশনিস্ট উইলিয়াম সাগস বলেন, ‘ক্লান্ত অবস্থায় আপনার শ্রমসাধ্য ওয়ার্ক আউট হবে সময়ের অপচয়, যদি আপনার নিয়মিত রুটিন মেনে চলার মতো শক্তি না থাকে।’ এর পরিবর্তে হালকা কার্ডিও যেমন- ওয়াকিং, বাইকিং অথবা এলিপ্টিকেলের প্রতি মনোযোগ দিন। সাগস বলেন, ‘যদি আপনি অবশ্যই কিছু আয়রন পাম্প করতে চান, ফ্রি ওয়েট থেকে দূরে থাকুন এবং ইনজুরি থেকে রক্ষার্থে তৈরিকৃত সার্কিট মেশিনের সাহায্য নিন।’ যখন আপনি ক্লান্ত অবস্থায় ওয়ার্কআউট করবেন, আপনার পেশীর খিঁচুনি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে। সাগস বলেন, ‘আপনি অধিক ইনজুরিপ্রবণ হবেন, যখন আপনি ক্লান্ত থাকবেন, কারণ তখন আপনার পক্ষে ওয়ার্কআউটে মনোযোগ দেওয়া এবং নিজের শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হবে।’
* ক্যাফেইন সমৃদ্ধ বেভারেজ পান করবেন না
যদি ক্লান্ত হয়ে পড়েন, তাহলে কফি বা ক্যাফেইন সমৃদ্ধ তরল পান করবেন না, কারণ ক্যাফেইন আপনাকে সজাগ রাখতে পারে। নিউইয়র্ক-প্রেসবিটারিয়ান হসপিটালের অন্তর্ভুক্ত ওয়েইল কর্নেল সেন্টার ফর স্লিপ মেডিসিনের ঘুম বিশেষজ্ঞ ড্যানিয়েল ব্যারোন বলেন, ‘ক্যাফেইন সমৃদ্ধ বেভারেজ পানে আপনি শক্তির ঢেউ অনুভব করবেন না, আপনার ব্রেইন জ্ঞাত থাকে যে আপনার শরীরে ক্যাফেইন আছে- যার ফলে রাতে আপনার ঘুমানোর ক্ষমতা খর্ব হতে পারে।’
* সঙ্গীর সঙ্গে কলহে জড়াবেন না
যখন ক্লান্ত থাকবেন, তখন সঙ্গীর সঙ্গে দ্রুত হালকা ঝগড়া বেঁধে যেতে পারে। ইউসি বারকেলে এবং হার্ভার্ড মেডিসিন স্কুলের গবেষণা অনুসারে, ঘুমের অপর্যাপ্ততার কারণে আবেগ বা মানসিক অবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ গবেষণার লেখক ম্যাথু ওয়াকার বলেন, ঘুমহীনতায় ব্রেইন যুক্তিসংগত, নিয়ন্ত্রিত ও উপযুক্ত সাড়া প্রদানে অক্ষম হয়ে পড়ে। ইউসি বারকেলের অন্য একটি গবেষণায় পাওয়া যায়, ক্লান্ত অবস্থায় যথার্থভাবে কারো মুখের ভাব পড়া কঠিন, যে কারণে আপনার সঙ্গীর উদ্দেশ্য বা অভিপ্রায়কে ভুল বোঝার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।
* ন্যাপ নেবেন না
ন্যাপ বা দিনে স্বল্প নিদ্রা ভালো আইডিয়া, যদি তা হয়ে থাকে সঠিক পন্থায়। ক্লান্ত হলে দিনে ন্যাপ নেবেন না। ডা. ব্যারোন বলেন, ‘দিনে অত্যধিক ঘুম গেলে বা দিনের শেষভাগে ঘুম গেলে রাতে ঘুম যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে- যার মানে হচ্ছে পরেরদিন আপনি ক্লান্ত থাকবেন।’ তিনি যোগ করেন, ‘রাতে আপনার বেডটাইমকে বিঘ্নিত না করে শরীরকে চাঙ্গা করতে দিনে পারফেক্ট ন্যাপের সময় হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ মিনিট।’
* জাঙ্ক ফুড খাওয়ার ইচ্ছাকে প্রশ্রয় দেবেন না
গবেষণায় আবিষ্কার হয় যে, ঘুম-বঞ্চিত ব্রেইন চর্বি ও উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবারের আকাঙ্ক্ষা করে, এর কারণ হচ্ছে সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণকারী অংশটি ভোঁতা হয়ে যায় এবং এসব খাবার খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা বেড়ে যায়। জাঙ্ক ফুড খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রতিহত করা কঠিন। সাগস বলেন, ‘যখন আপনি ক্লান্ত থাকবেন, আপনার শরীর ডোপামিন নিঃসরণের জন্য উন্মুখ থাকবে, তাই আপনার প্রিয় অস্বাস্থ্যকর খাবার ভোজন আপনার ব্রেইনকে ভোজন করাবে এবং আপনাকে খুশি করবে।’ অন্য একটি পরামর্শ হচ্ছে- গ্রোসারি স্টোর থেকেও দূরে থাকুন। উপসালা ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় পাওয়া যায় যে, ঘুম-বঞ্চিত খরিদ্দাররা ক্লান্ত না থাকা অবস্থার তুলনায় অধিক পরিমাণে উচ্চ ক্যালরি সমৃদ্ধ খাবার কিনে।
* কর্মস্থলে যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্ট ট্যাকল দেবেন না
যেদিন ক্লান্ত অনুভব করবেন সেদিন সম্ভব হলে বসের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলাপ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন। ডিউক ইউনিভার্সিটি মেডিক্যাল সেন্টারের এক গবেষণায় পাওয়া যায় যে, ঘুম-বঞ্চিত প্রাপ্তবয়স্করা কোনোকিছু সম্পর্কে ইতিবাচক ফলাফলের মনোভাব বেশি এবং নেতিবাচক ফলাফলের মনোভাব কম পোষণ করেন। যার মানে হচ্ছে, যখন আপনি ক্লান্ত অবস্থায় কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন তখন সে সিদ্ধান্ত চনমনে বা ফুরফুরে অবস্থায় নেওয়া সিদ্ধান্তের মতো অতটা ভালো নাও হতে পারে। ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর ঘুম বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টেন নাটসন রিয়েল সিম্পল ডটকমকে বলেন, আপনার কাজ ভালোভাবে করার জন্য সর্বোত্তম উপায় হচ্ছে পর্যাপ্ত ঘুম যাওয়া।
* স্বাভাবিক ঘুমের শিডিউল থেকে বিচ্যুত হবেন না
ঘুমের স্বাভাবিক প্যাটার্ন থেকে বিচ্যুত হলে আপনি ক্লান্তিকর ও অনিয়মিত চক্রের মধ্যে পড়ে যাবেন, যার ফলে আপনার কোয়ালিটি স্লিপ বাধাগ্রস্ত হবে। ঘুম বিশেষজ্ঞ মাইকেল ব্রুস প্রিভেনশন ডটকমকে বলেন, ‘আপনার ব্রেইন তাড়াতাড়ি ঘুম যাওয়ার জন্য প্রস্তুত নয়, তাই ক্লান্তি নিয়ে বিছানায় গেলে শরীর ক্লান্ত ও ব্রেইন সক্রিয় থাকার কারণে আপনার মনে নৈরাশা জন্ম নিতে পারে এবং ঘুম যাওয়া আরো কঠিন হতে পারে।’ তিনি যোগ করেন, ‘আপনি দুইদিন ধরে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট ঘুমহীন চোখে বিছানায় এপাশ-ওপাশ করলেও আপনার শরীর দেরি করে ঘুমাতে এবং দেরি করে জাগতে চাইবে।’ ডা. ব্যারোন বলেন, ‘ক্লান্ত থাকলেও প্রতিরাতে সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন।’
* আপনি কতটা ক্লান্ত তা নিজে নিজে নির্ণয়ের চেষ্টা করবেন না
ঘুমের অভাব আপনি প্রকৃতপক্ষে কতটা ক্লান্ত তা নির্ধারণ করা দুরূপ করে তোলে। এক গবেষণায় পাওয়া যায়, যেসব লোক ঘুমহীন রাত কাটিয়েছেন তারা ক্লান্তি অনুভব করেননি বলে জানান, কিন্তু তাদেরকে সম্পন্ন করতে দেওয়া কাজে অধিক ভুল করেন। ডা. ব্যারোন বলেন, ‘আপনি কতটা ক্লান্ত তা নির্ণয়ের চেষ্টা করবেন না, মূল বিষয় হচ্ছে আপনি ক্লান্ত।’ ক্লান্ত অবস্থায় কোনো বড় সিদ্ধান্ত না নেওয়া অথবা বড় ধরনের কাজ না করাই ভালো আইডিয়া।
* সোশাল মিডিয়া ব্যবহার করবেন না
আপনি মনে করতে পারেন যে, ক্লান্তিকর অবস্থায় ফেসবুক ফিড স্ক্রল করা হচ্ছে রিলাক্সের কাজ। কিন্তু এই ফাঁদে পড়বেন না। ক্লান্ত অবস্থায় আপনার বিবেচনা ও আত্মনিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি আপনার সামর্থ্য বা অনুকূলে থাকে না এবং আপনি এমন কিছু পোস্ট করতে পারেন- যে কারণে পরে অনুতপ্ত হতে হবে। এছাড়া বিছানায় ফোনের ব্যবহার বা ফোনে পড়া আপনাকে দীর্ঘক্ষণ জাগিয়ে রাখবে। ফোন বা কম্পিউটারের আলো আপনার ব্রেইনের ক্ষতি করতে পারে, যেমনটা করে সূর্যালোক।
* ড্রিংক করবেন না
বিছানায় যাওয়ার পূর্বে অ্যালকোহল পান প্রকৃতপক্ষে ঘুমের গভীরতম ধরন ‘র?্যাপিড আই মুভমেন্ট স্লিপ’-কে ব্যাহত করতে পারে এবং আপনাকে শেষরাতে বা খুব সকালে জাগিয়ে তুলতে পারে। যদি আপনি ড্রিংক করতে চান, তাহলে বিছানায় যাওয়ার কমপক্ষে তিন ঘণ্টা পূর্বে ড্রিংক শেষ করুন। ঘুমাতে যাওয়ার ঠিক পূর্বে জাঙ্ক ফুড বা অন্যান্য খাবার ভোজনও এড়িয়ে চলুন। ঘুমানোর পূর্বে খাবার খেলে আপনার হজম ব্যাহত হতে পারে, কারণ হচ্ছে- আপনার ডাইজেস্টিভ ট্র্যাক্ট ঘুমানোর সময় বিশ্রামে থাকে বলে ধারণা করা হয়।
তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট


প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০১৮, ৮:০৩:২০ পুর্বাহ্ন



 
Advertise