আজ - বুধবার, ২০ জুন, ২০১৮ ইং | ৬ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ: 

জেলা প্রশাসন প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহের মূল্যই দিচ্ছেনা

কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন কাজ মুখ থুবড়ে পড়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগ্রহে কক্সবাজার বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করার পরিকল্পনা মুখ থুবড়ে পড়েছে। বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ সিভিল এভিয়েশন অথরিটি প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত অগ্রাধিকার প্রকল্পটি শেষ করতে সর্বাত্মক তৎপরতা চালালেও কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের চরম অসহযোগিতা প্রকল্পটির কার্যক্রম থমকে দিয়েছে। গত বছরের ৬ মে প্রধানমন্ত্রী অতিআগ্রহ নিয়ে কক্সবাজারে সম্প্রসারিত রানওয়ে উদ্ভোধন করেন।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের (১ম পর্যায়) জন্য ২৪ দশমিক ৯৫ একর জমি সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ দীর্ঘ সময়েও বুঝে না পাওয়ায় এই অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অথচ ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তৃক এল এ কেইস নং ৪/১৫-১৬ এর মাধ্যমে এই জমির চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে সিভিল এভিয়েশন অথরিটি । প্রাসঙ্গিক কার্যাদি সম্পাদন শেষে সিভিল এভিয়েশন অথরিটি কর্তৃক ভূমির ক্ষতিপূরণ মূল্য বাবদ ৫২০ কোটি ৩২ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা কক্সবাজারের জেলা প্রশাসন বরাবর  প্রদান করা হয়েছে গত বছরের ৬ই এপ্রিল। টাকা প্রাপ্তির পর জেলা প্রশাসন রহস্যজনক কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ক্ষতিপুরণের টাকা বন্টনে দীর্ঘসূত্রিতার আশ্রয় নিয়েছে। অধিগ্রহণকৃত জমি দ্রুত হস্তান্তরের জন্য সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ কক্সবাজারের জেলা প্রশাসনকে বেশ কয়েক দফা লিখিত ও মৌখিকভাবে অনুরোধ করেছে।
প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প ও জাতীয়ভাবে অতীব গুরুত্বপূর্ণ, বিষয়টি সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান ফোন করেও জেলা প্রশাসককে অবহিত করেছেন। কিন্তু জেলা প্রশাসন থেকে এর গুরুত্ব বিবেচনায় কোন ব্যবস্থা না নিয়ে বছরের পর বছর এ সংক্রান্ত ফাইল আলমারিবন্দী করে রেখেছেন। এর কোন কারণও জানানো হয়নি। কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সিভিল এভিয়েশন অথরিটির কয়েক দফা লিখিত পত্রের জবাব দেয়ার তাগিদও বোধ করেননি বরং জেলা প্রশাসন নানারকম টালবাহানা এবং প্রসাশনিক জটিলতা সৃষ্টি করে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত প্রকল্পটির কার্যক্রমে বাধার সৃষ্টি করছে। নিরুপায় হয়ে সিভিল এভিয়েশন অথরিটির চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম নাইম হাসান মন্ত্রণালয়ের সচিবকে লিখিতভাবে জানিয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। গত শুক্রবার সিভিল এভিয়েশন অথরিটির চীফ ইঞ্জিনিয়ার সুধাংশু বিকাশ গোস্বামীও প্রকল্পস্থান পরিদর্শন করে এসেছেন।
বার বার অনুরোধ করা সত্ত্বেও জমি হস্তান্তরের ব্যাপারে কোন প্রকার কার্যক্রম গ্রহণ না করায় সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট সকল উন্নয়ন কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন। বৃহৎ সুপরিসর বিমান নিরাপদে চলাচলের জন্য ভিডিও স্থাপন, রানওয়ের পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বিমানবন্দরে অধিক নিরাপত্তা টহল রাস্তা, অপারেশনাল নিরাপত্তা প্রাচীরসহ প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ শেষ হওয়ার কথা এ’বছরের জুনের মধ্যে। কিন্তু কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা ও অত্যন্ত রহস্যজনক অসহযোগিতামূলক আচরণের কারণে তা সম্ভব হবে না। প্রকল্প শেষ হতে এক বছরও বাড়তি সময় লেগে যেতে পারে। এদিকে জমি না পাওয়ায় ঠিকাদারের দিক থেকেও সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষকে বার বার তাগিদ দেয়া হচ্ছে। ঠিকাদারও মোটা অংকের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। ফলে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে যাবে।
অপরদিকে বিমানবন্দরের দক্ষিণ পাশে জেলে পার্ক মাঠ এপ্রোচ লাইট, ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেমসহ রানওয়ে অ্যান্ড সেফটি এরিয়ার জন্য দীর্ঘমেয়াদি ৩৩ দশমিক ৫৪৬ একর খাস জমির বন্দোবস্ত চাওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে আবেদন করা হয় ২০১৬ সালের ৩১ অক্টোবর। দীর্ঘদিন আগে এ সংক্রান্ত আবেদন করা হলেও উল্লেখিত পরিমাণ খাস জমি দ্রুত হস্তান্তরের ব্যাপারে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন অনাকাক্সিক্ষত ঢিলেমি করছেন। যার ফলে এই অংশের কাজও করা সম্ভব হচ্ছে না।
উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বিমানবন্দরে রাত্রিকালীন বিমান উড্ডয়ন, অবতরণ ও অপারেশনাল সুবিধাসমূহ বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের বিধি মোতাবেক আইএলএস, এসএএলএস, আরই এসএ, ক্লিয়ারওয়ে স্থাপন নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। জেলা প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় এইসব কাজেও হাত দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ অন্যান্য কাজ নির্ধারিত মান ও চাহিদা অনুযায়ী উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে নিলেও গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজই পিছিয়ে আছে। রানওয়ে সম্প্রসারণ, রানওয়ের শক্তি বৃদ্ধি, এয়ারফিল্ড গ্রাউন্ড লাইটিং সিস্টেমসহ (উঠঙজ, উগঊ, ওখঝ) স্থাপন করা হবে। ইতিমধ্যে রানওয়ে সম্প্রসারণ ও শক্তি বৃদ্ধির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। কিন্তু পুরো প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ পিছিয়ে পড়ায় কক্সবাজার বিমানবন্দরকে সরকারের মেয়াদকালেই আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা অপূরণই থেকে যাচ্ছে।


প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০১৮, ১১:০৩:৫৬ পুর্বাহ্ন



 
Advertise