আজ - বুধবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৮ ইং | ২ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ: 

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এখন নতুন উচ্চতায়

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে তোফায়েল
নিজস্ব প্রতিবেদক : বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশের সাথে ভারতের সম্পর্ক এখন নতুন উচ্চতায়, এ সম্পর্ক দিন দিন আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের সাথে ভারতের পারস্পরিক বিশ^াস এবং সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগ্রহে ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অনেক উন্নতি ঘটেছে। দীর্ঘদিনের  দু‘দেশের সীমানা সমস্যা ল্যান্ড বাউন্ডারির শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়েছে। ভারত বাংলাদেশের ঘনিষ্ট ও বিশ^স্থ বন্ধু। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের সহযোগিতার কথা বাংলাদেশের মানুষ কৃতজ্ঞতার সাথে স্বরণ করে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের মধ্যদিয়ে উভয় দেশ নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত করেছে। উভয় দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বেগবান হয়েছে। রপ্তানি পণ্যের কাঁচামালের একটি বড় অংশ ভারত থেকে বাংলাদেশ আমদানি করে থাকে। বাংলাদেশের রপ্তানি বৃদ্ধির সাথে সাথে ভারতের সাথেও বাণিজ্যের পরিমান বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাণিজ্য সুবিধা বৃদ্ধি করলে  ভারতের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি আরো বৃদ্ধি পাবে। এতে করে উভয় দেশ উপকৃত হবে এবং বাণিজ্য ব্যবধানও কমে আসবে। ভারতের নয়াদিল্লীতে অনুষ্ঠিত ইনফরমাল ডব্লিউটিও মিনিস্টেরিয়াল মিটিং-এ যোগদানরত বাণিজ্যমন্ত্রী সম্মেলনে যোগদানকারী অন্যান্য দেশের বাণিজ্যমন্ত্রীদের সাথে গতকাল বিকেলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে এক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য প্রদানের সময় এসব কথা বলেন। সম্মেলনে যোগদানকারী ৫৩জন বাণিজ্যমন্ত্রী বা প্রতিনিধির মধ্যে মাত্র পাঁচজন এ মতবিনিময় সভায় বক্তব্য প্রদান করার সুযোগ পান।
এর আগে ইনফরমাল ডব্লিউটিও মিনিস্টেরিয়াল মিটিং-এর দ্বিতীয় পর্যায়ে ‘ওয়ে ফরোয়ার্ড অন ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক মতবিনিময় সেশনে মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য প্রদানের সময় তোফায়েল আহমেদ বলেন, ডব্লিউটিও-কে কার্যকর ও সঠিক পথে পরিচালনার জন্য  স্পেশাল এন্ড ডিফারেন্সিয়াল ট্রিটমেন্ট (এস এন্ড ডিটি) প্রভিশন সঠিক ও কার্যকর ভাবে পুনর্বিচার করার সময় এসেছে। দোহা ডিকলারেশনের ৪৪ প্যারার যথাযথ বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। দশম এবং এগারোতম মিনিস্টেরিয়াল কনফারেন্সের সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন না হওয়ায় আমরা হতাস। বিশ^ রপ্তানি বাণিজ্যে ২০২০ সালের মধ্যে শতকরা দুইভাগ অবদান রাখতে না পারলে এসডিজি বাস্তবায়ন এলডিসি ভুক্ত দেশগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে। রপ্তানি ধারা ক্রমেই কমে আসছে। ২০১৩ সালে ছিল ১.১৭ ভাগ, ২০১৫ সালে তা হয়েছে ০.৯৮ ভাগ এবং ২০১৭ সালে তা এসে দাড়িছে ০.৯১ ভাগে।
ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী সুরেশ প্রুভু-র সভাপতিত্বে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য বাণিজ্য প্রসার একান্ত প্রয়োজন, আর সে বাণিজ্যের জন্য প্রয়োজন ব্যবসাবান্ধব বাণিজ্যনীতি। বিশ^ বাণিজ্য সংস্থায় দিনদিন বাণিজ্য জটিল আকার ধারণ করছে। এ বিষয় গুলোকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। তা না হলে বিশ^ বাণিজ্য সঠিক পথে এগিয়ে যাবে না। বিশ^ বাণিজ্য সংস্থায় আমরা উন্নয়নের বিষয়ে সকলেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। উন্নয়নকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে বাণিজ্যনীতি গ্রহণ ও তা সঠিক বাস্তবায়ন করতে হবে। তা হলেই কেবল ডব্লিউটিও-এর উদ্দেশ্য সফল হবে।


প্রকাশ: ২২ মার্চ ২০১৮, ৭:০৩:১৭ পুর্বাহ্ন | সর্বশেষ সম্পাদনা: ২২ মার্চ ২০১৮, ৭:২০:১০ পুর্বাহ্ন



 
Advertise