আজ - সোমবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১৮ ইং | ১০ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ: 

সুনামগঞ্জের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে

নিউজ ডেস্ক

বর্ষার টানা বর্ষণ আর পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে সুনামগঞ্জ জেলার লক্ষাধিক মানুষ। জেলার দোয়ারাবাজার, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুরসহ বিভিন্ন উপজেলার মরাত্মভাবে বন্যা কবলিত। চরম দুর্ভোগে আছে হাজার হাজার মানুষ।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, বুধবার বিকেল পর্যন্ত সুনামগঞ্জের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পানিবন্দি হয়ে পড়া উপজেলাগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, ওই উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের ২৪টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। দোয়ারাবাজার-সুনামগঞ্জ সড়কের বিভিন্ন স্থান তলিয়ে যাওয়ায় জেলার সঙ্গে উপজেলার সকল এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির তালিকা জেলা প্রশাসনে পাঠানো হয়েছে।জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তালুত মিয়া জানান, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তাদের জন্য শুকনো খাবার ও নগদ টাকা বরাদ্দ চেয়ে জেলা প্রশাসনে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খালেদুর রহমান জানান, ওই উপজেলার ৩০টি গ্রামের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি। উপজেলার সঙ্গে জেলার ও ইউনিয়নগুলোর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির তালিকা জেলা প্রশাসনে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, জেলার ৪টি উপজেলার ১৪০ হেক্টর রোপা আমন বীজতলা, আউশ ধান ও সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তন্মধ্যে রোপা আমন বীজতলা ৬০ হেক্টর, আউশ ধান ৫৫ হেক্টর ও সবজি ২৫ হেক্টর রয়েছে।
সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে : টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৯০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুরমাসহ অন্যান্য নদনদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় সুরমা নদীর সুনামগঞ্জ পয়েন্টে এ পরিস্থিতি দেখা গেছে বলে সমকালকে নিশ্চিত করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আফছর উদ্দিন। তিনি বলেন, লাগাতার বৃষ্টিপাত, পাহাড়ি ঢল এবং ভারতের বরাক উপত্যকায় পানি বাড়ায় সুনামগঞ্জে সুরমা নদীসহ অন্যান্য নদীতে পানি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জ পয়েন্টে প্রায় ৪০ সেন্টিমিটার বেড়ে ৯০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।’
গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ১২৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলেও জানান প্রকৌশলী মো. আফছর। এদিকে, সুরমা নদীর পানি সকালে শহরের নবীনগর, কাজীরপয়েন্ট, মাছবাজার, সবজিবাজার, জেলা রোড, উকিলপাড়া, উত্তর আরপিননগর, তেঘরিয়া এলাকায় প্রবেশ করেছে। পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জ সীমান্তের মঙ্গলকাটা বাজারসহ আশপাশের এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া দোয়ারাবাজারের খাসিয়ামারায় বাঁধ ভেঙ্গে পাহাড়ি ঢলে উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সব সড়ক ডুবে গেছে। জামালগঞ্জ ও তাহিরপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চলেও বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকাও প্লাবিত হয়েছে বলে জানা গেছে। জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম সকালে সরেজমিনে দোয়ারাবাজারের পরিস্থিতি দেখতে যান। তিনি মোবাইল ফোনে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত যে পানি হয়েছে, এটাকে দুর্যোগ বলা যাবে না। তবে বন্যা হলে মোকাবেলার প্রস্তুতি রয়েছে আমাদের।’ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা ডাকা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
 


প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০১৬, ৯:০৭:২৭ পুর্বাহ্ন



 
Advertise