আজ - বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ: 

মানবিক বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে রোহিঙ্গারা

নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ রোহিঙ্গা শরনার্থীদের নিয়ে এক মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ বিপর্যয় মারাতœক আকারেও দেখা দিতে পারে। আসন্ন বর্ষা, বৃষ্টিতে ব্যাপক পাহাড়, টিলা ধ্বস হতে পারে। এতে রোহিঙ্গাদের চরম বিপর্যয়ের মুখোমুখি করবে।
এ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। তারা কক্সবাজার জেলা প্রশাসন এবং বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে তাদের আশঙ্কার কথা জানিয়ে অবিলম্বে জরুরি ভিত্তিতে রোহিঙ্গা শরনার্থীদের সরিয়ে সমতলে বা ঝুঁকিমুক্ত স্থানে আবাসনের ব্যবস্থা করতে বলেছে। মায়ানমার কর্তৃপক্ষের চরম নিষ্ঠুরতার শিকার হয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। সরকারও টেকনাফ, কক্সবাজারের মানুষ অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তাদের আশ্রয় দিয়েছে। কক্সবাজার, টেকনাফসহ সারাদেশের অর্থনৈতিক-সামাজিক-আইনশৃঙ্খলা সমস্যা সৃষ্টি করেছে রোহিঙ্গা শরনার্থীরা। বাংলাদেশের উপর প্রচন্ড চাপ সৃষ্টির পরও  এ দেশের মানুষ, সরকার আশ্রয়, খাবার, চিকিৎসা, শিক্ষার ব্যবস্থা করতে সাহায্য-সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেছে। আশ্রিত কোন রোহিঙ্গা অনাহারে, অর্ধাহারে, বিনা চিকিৎসায় থাকার ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু তারপরও চরম বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী এ আশঙ্কা স্থানীয় জনগণ বা সরকার সৃষ্টি করেনি। রোহিঙ্গারাই সৃষ্টি করেছেন। পাহাড় ও পাহাড়ঞ্চলে তারা আবাসন গড়ে তুলেছেন। সেখানে তারা যে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছেন তাতে ব্যাপক পাহাড় ধ্বসের আশঙ্কা রয়েছে। রোহিঙ্গা শরনার্থীদের জন্য সরকার ৫ হাজার ১৩ একর বনভূমি বরাদ্দ দিয়েছে। বালুখালি ও কুতুপালং এ বনভূমির ৩ হাজার ৫শ একর বনভূমি রয়েছে। এর মধ্যে এসব বনভূমিতে প্রায় ৪লাখ রোহিঙ্গা শরনার্থী রয়েছে। গত বছরের আগস্টের আগে এবং আগস্ট থেকে  বিভিন্ন সময়ে আসা রোহিঙ্গা শরনার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাড়ে এগার লাখ। পাহাড়ের বনভূমিতে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা প্রতিদিন বন ও পাহাড় কাটছে। পাহাড় কেটে বসতি গড়ছে। পাহাড় ন্যাড়া করা এবং পাহাড়, বন কাটার ফলে পাহাড় ধ্বসের সমূহ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পরিবেশ অধিদপ্তর। বর্ষায় বৃষ্টিতে এই ধ্বস হতে পারে। এতে বহু মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন রোহিঙ্গাদের সরিয়ে এনে নিরাপদ স্থানে আবাসন ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা নিয়েছেন। কিন্তু এখনও তেমন কোন ব্যবস্থা বাস্তব রুপ লাভ করেনি। বনভূমি সাবার করা রোধেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
রোহিঙ্গারা  গাছ পালা কেটে বসতি গড়ে তুলেছে। তারা বন থেকে রান্নার লাকড়ি সংগ্রহ করছে। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী এ পর্যন্ত প্রায় সাত হাজার একর প্রাকৃতিক ও সৃজিত বনভূমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। প্রতিদিন রোহিঙ্গারা প্রায় ১ হাজার টন লাকড়ি বনভূমি থেকে সংগ্রহ করছে রান্নার কাজে ব্যবহারের জন্য। গোড়াসহ গাছ তুলে ফেলায় বনভূমি মারাতœকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন তা রোহিঙ্গাদের জীবনের জন্যই বিরাট হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে।


প্রকাশ: ৯ এপ্রিল ২০১৮, ৯:০৪:২৯ পুর্বাহ্ন



 
Advertise