আজ - বুধবার, ২২ আগস্ট, ২০১৮ ইং | ৭ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ: 

সুন্দরবনের হাড়বাড়িয়ায় ৭৭৫ মে.টন কয়লা নিয়ে লাইটার জাহাজ ডুবি

বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটের সুন্দরবনের হাড়বারিয়া এলাকায় ৭শ ৭৫ মেট্রিকটন কয়লা নিয়ে ‘এমভি বিলাশ’ নামের কয়লা বোঝাই একটি লাইটার জাহাজ ডুবে গেছে। শনিবার রাতে মোংলা বন্দরের পশুর নদীর হাড়বাড়িয়া এলাকায় তলা ফেটে ডুবে যায় কয়লাবোঝাই ওই জাহাজটি। তবে ডুবে যাওয়া জাহাতের মালিকপক্ষ জাহাজটি মার্কিং ও উদ্ধারের জন্য তৎপরতা শুরু করেছে। মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে প্রায় ৬০ নটিক্যাল মাইল দূরে হাড়বাড়িয়ার ৫ নম্বর এ্যাংকরের কাছে লাইটারটি ডুবে যায়। ভাটার সময় জাহাজটির মাষ্টার ব্রিজের আশিংক দেখা গেলেও জোয়ারের সময় জাহাজটি পুরোপুরি তলিয়ে থাকছে।
ডুবে যাওয়া কার্গো জাহাজের চালক মো: আমির হোসেন জানান, মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলের হাড়বাড়িয়া-৬ নম্বর এ্যাংকোরেজে থাকা একটি বিদেশী জাহাজ থেকে প্রায় ৭শ ৭৫ মেট্টিক টন কয়লা বোঝাই করে এমভি বিলাস নামক কার্গো জাহাজটি শনিবার দুপুর ২টার চ্যানেলের কুলের কাছাকাছি গিয়ে অবস্থান নেয়। এরপর রাত ৩টায় ভটার সময় জাহাজটি চরে আটকে কাত হয়ে গিয়ে ডুবে যায়। ভাটার সময় জাহাজটির মাষ্টার ব্রিজের আশিংক দেখা গেলেও জোয়ারের সময় জাহাজটি পুরোপুরি তলিয়ে থাকছে। কয়লা নিয়ে জাহাজটি ঢাকার মীরপুরের উদ্দেশ্যে যাওয়ার কথা ছিল বলে জানান কার্গো জাহাজের আমির।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার মো. ওয়ালিউল্লাহ বলেন, ডুবে যাওয়া এমভি বিলাশ নামের জাহাজটি ৭৭৫ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে যাচ্ছিল। পথে ডুব চরে ধাক্কা লেগে এটি ডুবে যায়। কয়লাবাহী লাইটার জাহাজটি সাহায্য চাইলে উদ্ধার যান এমভি শিপসা সেখানে পৌঁছে উদ্ধারের চেষ্টা করে। তবে রাত ৩টার দিকে জোয়ারের পানির তোড়ে জাহাজটি কাত হয়ে ডুবে যায়। লাইটারটি দেখা যাচ্ছে। তা উদ্ধার করার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
কয়লা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সাহারা এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক (অপারেশন) মো. লালন হাওলাদার বলেন, গত ১৩ এপ্রিল লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী এমভি অবজারভেটর জাহাজটি ২৪ হাজার ৫০০ মেট্রিকটন কয়লা নিয়ে মোংলা বন্দরের হারবাড়িয়ার ৬ নম্বর অ্যাংকরে নোঙ্গর করে। ১৪ এপ্রিল সকাল থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত মাদার ভ্যাসেলটি থেকে লাইটার জাহাজটিতে ৭৭৫ মেট্রিকটন কয়লা বোঝাই করা হয়। এটি ঢাকার মীরপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে হারবাড়িয়ার ৫ নাম্বার এ্যাংকরে পৌছে ডুবো চরে আটকা পড়ে। লাইটারের মাস্টার ডুবোচর থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য মংলা বন্দরের সাহায্য চায়। বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্ধার যানটি ঘটনাস্থলে পৌছেও তা রক্ষা করতে পারেনি। ডুবে যাওয়া লাইটারটি এক হাজার মেট্রিকটন ধারণক্ষমতার ছিল বলে দাবি করে তিনি বলেন, প্রবল জোয়ারের চাপে কয়লা বোঝাই লাইটারটি কাত হয়ে ডুবে যায়। লাইটারের কয়লা কোথাও ভেসে যায়নি এবং এতে পরিবেশের কোনো ক্ষতির আশংকা নেই বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে সুন্দরবনে আবারো কয়লা বোঝাই কার্গো জাহাজ ডুবির ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে সেভ দ্যা সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, কয়লার জাহাজ ডুবিতে সুন্দরবনের জলজ-প্রাণীজ ও জীববৈচিত্রের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবে। কারণ এ কয়লা সাধারণত ইটভাটাগুলোতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এ কয়লায় সালফারের পরিমাণ বেশি থাকায় এটি পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতি করে থাকে।


প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০১৮, ১০:০৪:২২ অপরাহ্ন



 
Advertise