আজ - মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ১০ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ: 

রাজশাহীতে পদ্মা পাড়ের ভবন ধসের আতঙ্কে এলাকাবাসী

তড়িৎ নিউজ .কম

রাজশাহী ব্যুরো : রাজশাহী নগরীর সেখেরচক বিহারীপাড়া এলাকায় পদ্মা নদীর পাড় ঘেঁষা সড়কে ধসের পর এবার কয়েকটি বাড়িতে ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে ভবন ধসের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় সেখেরচক বিহারীপাড়া এলাকার ইদ্রিস আলী, কালাম এবং আলমগীরের বাড়ির কিছু অংশ ধসে গেছে। অসহায় পরিবারগুলো এখন খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে।
স্থানীয়রা জানায়, প্রায় এক বছর আগে নির্মিত পদ্মা তীরবর্তী রাস্তাটিতে কয়েক দিন ধরে ফাটল তৈরির পর ধস শুরু হয়। গত রোববার সেটি ভয়াবহ রূপ নেয়। প্রায় ২০০ মিটার সড়ক মূল উচ্চতা থেকে অন্তত ছয়-আট ফুট দেবে যায়। এরপর থেকেই এলাকাবাসী আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।সন্ধ্যায় ওই এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, দোকান কর্মচারী ইদ্রিস আলীর বাড়ির চারটি কক্ষের মধ্যে তিনটি ধসে গেছে। তার পাশে কালামের বাড়ির চারটির মধ্যে একটি ও অটোরিকশা চালক আলমগীরের বাড়ির চারটির মধ্যে দুটি কক্ষ দেবে গেছে।
ইদ্রিস আলী বলেন, দোকানে কাজ করে সামান্য বেতন পাই। এ টাকায় সংসার চলে না। বাড়িটিও পদ্মায় ধসে গেল। কেউ খবর নিচ্ছে না! এখন কোথায় থাকব; কেউই আশ্রয় দিচ্ছে না।তিনি আরও জানান, সিটি করপোরেশনের রাস্তাটি গত বছর নির্মাণের সময়ই কিছুটা দেবে যায়। তখন তারা সুরকি দিয়ে ফাটল ঠেকানোর চেষ্টা করে। তার ধারণা, এবারের বন্যায় পদ্মার তীর রক্ষার সব সিসি ব্লক নদীতে চলে গেছে। এতে নিচে ভাঙনের কারণে ওপরের অংশও দেবে যাচ্ছে। বাড়ি ধসের পর আট সদস্যের পরিবার নিয়ে এখন চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ইদ্রিস আলী। এ মহল্লায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মহল্লার অটোরিকশা চালক আলমগীরের বাড়ির দুটি কক্ষ ধসে গেছে। অন্য দুটি কক্ষও ভাঙনের কবলে। চোখে-মুখে আতঙ্ক আর অসহায়ত্ব নিয়ে ভাঙা বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে তার স্ত্রী সাজেদা। তিনি বলেন, আমরা কোথায় যাব? কোনো আশ্রয় নেই রাত্রি যাপনের! চোখের সামনে পুরো বাড়ির ধসে যাওয়া দেখছি। পানি উন্নয়ন বোর্ড, সিটি করপোরেশন কিছুই করছে না। এ ব্যাপারে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র নিযাম-উল আযিম বলেন, বর্ষার সময় পদ্মার পানির স্রোতে নিচের ব্লক সরে গেছে। এখন পানি নেমে যাচ্ছে, সেই সঙ্গে বাড়িঘর-রাস্তা বসে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, পানি সরার সঙ্গে সঙ্গে আরো বাড়িঘর ভেঙে যাবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে। আমাদের কিছু করার নেই।ভারপ্রাপ্ত মেয়র অভিযোগ করেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তারা দায়িত্বশীল না হলে এ ভাঙন ঠেকানো যাবে না। তবে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান সমকালকে বলেন, সড়ক ধসের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো ত্রুটি নেই। রাসিকের রাস্তায় সমস্যা। পানির ড্রেন লিক করে মাটি বসে গেছে। আমরা এটা মেরামত করে দেব।


প্রকাশ: ৫ নভেম্বর ২০১৬, ১১:১১:২৪ অপরাহ্ন | সর্বশেষ সম্পাদনা: ৫ নভেম্বর ২০১৬, ১১:৪৫:১৩ অপরাহ্ন



 
Advertise