আজ - বুধবার, ২২ আগস্ট, ২০১৮ ইং | ৭ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ: 

পশু এলেও বিক্রি শুরু হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক: কোরবানির বাকি আর মাত্র ছয় দিন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন পশুর হাটে আসতে শুরু করেছে গরু। রাজধানীর সবচেয়ে বড় পশুর হাট গাবতলীতে এরই মধ্যে গরু আসতে শুরু করেছে। তবে গরু এলেও এখনো জমে ওঠেনি হাট। গতকাল শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর গাবতলী পশুর হাট ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ব্যাপারীরা তাদের গরু, মহিষ, ছাগল নিয়ে বসে আছেন। বিশাল এই পশুর হাটে ক্রেতাদের দেখা মিলছে না। ক্রেতার উপস্থিতি তেমন না হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত দামও উঠছে না। হাটে গরু নিয়ে আসা অনেক ব্যাপারী মনে করছেন, ঈদের তিন বা চার দিন আগে মূলত ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতিতে জমে ওঠে। তাই ওই সময়টার জন্যই অপেক্ষা। গাবতলী পশুর হাটে ঢুকতেই দেখা গেছে কুষ্টিয়া থেকে আসা মোতাহার হোসেন তার গরুগুলোকে খাবার দিচ্ছেন। বিক্রি শুরু হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি গত মঙ্গলবার এই হাটে ১৫টি গরু নিয়ে এসেছি। হাট এখনো জমে ওঠেনি, তাই ক্রেতাদের সমাগম ও কম থাকায় অলস সময় পার করতে হচ্ছে।
গরুর দাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে যে গরু আছে তার অধিকাংশের দাম ৮০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার মধ্যে। কুষ্টিয়া থেকে গরু নিয়ে এসেছেন অপর এক ব্যাপারী মিজানুর হাওলাদার। তার সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, ‘আমি ১২টি গরু নিয়ে এসেছি। এর মধ্যে চারটি গরু আকারে অনেক বড়। তাই অনেকেই দেখতে আসে। কিন্তু কেনার জন্য এখনো কেউ আসেনি।’ গরুর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, না এখনো দাম ঠিক করা হয়নি। তবে বড় চারটি গরুর দাম দুই থেকে সাড়ে চার লাখ টাকার মধ্যে হবে।
এদিকে হাট পরিচালনা কমিটি হাসিলের বাইরেও অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক বিক্রেতা। তবে তাদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাট পরিচালনা কমিটির কর্মকর্তারা।
এদিকে কিছু সংখ্যক ক্রেতা গরু দেখতে এসে হতাশ হয়ে বলেন, ‘হাটে এখনো বেশি গরু না আসায় বিক্রেতারা বেশি দাম হাঁকছেন। তাছাড়া হাট এখনো পুরোপুরি জমেনি। তাই বিক্রেতারা অনেক বেশি দাম চাইছেন।’
এদিকে গাবতলী পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। হাটের বাইরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওয়াচ টাওয়ার বসানো হয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে যেসব হাট বসবে : ডিএনসিসি এলাকার হাটগুলোর মধ্যে রয়েছে- গাবতলী পশুর হাট (স্থায়ী), উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের ১ম গোলচত্বর সংলগ্ন খালি জায়গা, ভাটারা (সাঈদ নগর) পশুর হাট, বাড্ডা ইস্টার্ন হাউজিংয়ের (আফতাব নগর) পূর্বাংশের খালি জায়গা, মোহাম্মদপুর বছিলা বুদ্ধিজীবী সড়কসংলগ্ন পুলিশ লাইনের খালি জায়গা, মিরপুর সেকশন-৬ ইস্টার্ন হাউজিংয়ের খালি জায়গা, মিরপুর ডিওএইচএসে সেতু প্রোপার্টিজ সংলগ্ন ফাঁকা জায়গা, খিলক্ষেত ৩০০ ফুট সড়ক ও দক্ষিণ পাশের বসুন্ধরার প্রাচীরের মধ্যবর্তী ফাঁকা জায়গা, খিলক্ষেত বনরূপা আবাসিক প্রকল্পের খালি জায়গা, আশিয়ান সিটি হাউজিং পশুর হাট। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে যেসব হাট বসবে : খিলগাঁও মেরাদিয়া বাজার, উত্তর শাহজাহানপুরের খিলগাঁও রেলগেট বাজারসংলগ্ন মৈত্রীসংঘের মাঠ, গোপীবাগের ব্রাদার্স ইউনিয়নসংলগ্ন বালুর মাঠ, কমলাপুর স্টেডিয়ামের আশপাশের খালি জায়গা, ঝিগাতলার হাজারীবাগ মাঠ, লালবাগের রহমতগঞ্জ মাঠ, কামরাঙ্গীরচর ইসলাম চেয়ারম্যানের বাড়ির মোড় থেকে দক্ষিণ দিকে বুড়িগঙ্গা নদীর বাঁধসংলগ্ন খালি জায়গা, আরমানিটোলা খেলার মাঠ ও আশপাশের খালি জায়গা, পুরান ঢাকার ধূপখোলা ইস্ট অ্যান্ড ক্লাব মাঠ, পোস্তগোলা শ্মশান ঘাটসংলগ্ন খালি জায়গা, দনিয়া কলেজ মাঠসংলগ্ন খালি জায়গা, শ্যামপুর বালুর মাঠ ও সাদেক হোসেন খোকা মাঠসংলগ্ন ধোলাইখাল ট্রাক টার্মিনাল ও সংলগ্ন খালি জায়গা।


প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৭, ৯:০৮:২৯ পুর্বাহ্ন



 
Advertise