আজ - শুক্রবার, ২৫ মে, ২০১৮ ইং | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ: 

প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে কিন্ডারগার্টেনে ঝুঁকছে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা

খুলনা অফিস: প্রাথমিক শিক্ষা সকলের জন্য বাধ্যতামূলক। আর এজন্য রয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তবে প্রাথমিক বিদ্যালয় ছেড়ে অধিকাংশ শিক্ষার্থী ঝুঁকছে বেসরকারি কিন্ডারগার্টেনে। শিক্ষার্থী সংগ্রহে কিন্ডারগার্টেন শিক্ষকদের ব্যাপক তোড়জোড় থাকলেও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তেমনটা থাকে না।
জানা গেছে, খুলনায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রাক-প্রাথমিক থেকে রয়েছে পঞ্চম শ্রেণি পর্যšত। নেই কোন নির্ধারিত আসন সংখ্যা। তাদের জন্য রয়েছে নির্ধারিত বই। যা সরকারের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়। এদিকে প্রাথমিক থেকে অতিরিক্ত বই থাকলেও কিন্ডারগার্টেনে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা। একই সাথে অভিভাবকরাও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওপর নির্ভর করেন না। তারা ভিড় জমান কিন্ডারগার্টেনের আঙিনায়। কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষকরা ডিসেম্বর থেকে শিক্ষার্থী পেতে মরিয়া হয়ে ওঠে। কিন্তু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শিক্ষার্থী ভর্তি হতে আসার প্রতিক্ষায় থাকেন। এছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সঙ্কটসহ ঠিকভাবে ক্লাস না হওয়ায় ক্ষুদে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা দৌঁড়ঝাঁপ শুরু করেন কিন্ডারগার্টেনে। কিন্ডারগার্টেনে পড়ার চাপ ও নিয়মিতকরণে কড়াকড়ি থাকার পর ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের আনাগোনা কমে না।
সরেজমিন নগরীর দোলখোলা মোড়, মৌলভীপাড়া মোড়, শাšিতধাম মোড়, আহসান আহমেদ রোড মোড়ের কিন্ডারগার্টেনগুলোতে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ভিড় পরিলক্ষিত হয়।
রীতা রানী মন্ডল নামের এক অভিভাবক বলেন, কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষকরা শিশুদের প্রতি খুবই আšতরিক। তারা শিশুদের প্রথম থেকেই ভালোভাবে দেখভাল করেন। আর সেখানে লেখাপড়ার মান ভালো থাকায় তারা কিন্ডারগার্টেনের প্রতি আগ্রহী হয়।
কুসুম রানী নামের অপর এক অভিভাবক বলেন, কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের বেশি বই দিলেও নিয়মিত পাঠ আত্মস্থ করান। তাদের যতেœর সাথে পাঠদান করার ফলে শিশুরাও কিন্ডারগার্টেনের প্রতি আগ্রহী হয়।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ১৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আন্দোলনকারী আশফাকুর রহমান কাকন বলেন, তিনি বিষয়টি নিয়ে আন্দোলন করেছেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শিশু শিক্ষার্থীদের তাদের বিদ্যালয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন না। কিন্তু কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষকরা ঠিকই শিশুদের উদ্বুদ্ধ করে তাদের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করান। শিশু শিক্ষার্থী যাতে সরকারি সকল সুবিধা সম্বলিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিরে আসে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
ন্যাশনাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহানা আক্তার বলেন, সাধারণত অভিভাবকদের চাহিদার কারণে তারা তাদের শিশুদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করান না। তবে তারা কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি করান ঠিকই।
খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রমেন্দ্র নাথ পোদ্দার বলেন, অভিভাবকরা তাদের রুচির কারণে শিশুদের কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি করান। এক্ষেত্রে তাদের কোন আপত্তি নেই। এছাড়া শিশুদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে উৎসাহিত না করার বিষয়টিও তিনি স্বীকার করেন।


প্রকাশ: ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১২:০২:৩৯ অপরাহ্ন



 
Advertise