আজ - বুধবার, ২২ আগস্ট, ২০১৮ ইং | ৭ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ: 

বনের পরিত্যক্ত লাকড়ি কুড়িয়ে বৃদ্ধা সাফিয়ার জীবিকা নির্বাহ

মোঃ মামুন চৌধুরী,হবিগঞ্জ: সকালেই বনে প্রবেশ করে পরিত্যক্ত লাকড়ি কুড়িয়ে একত্র করা। পরে আঁটি বেঁধে মাথায় লাকড়ির বোঝা নিতে হয়। পায়ে হেঁটে যেতে হয় প্রায় এক কিলোমিটার। শরীরটা ভাল না হলেও জীবিকার তাগিদে এ বোঝা নিয়ে এগিয়ে হচ্ছে। এ অবস্থা তিনি থেমে থাকছেন না। থেমে গেলে জীবনও থেমে যাবে।
জেলার চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে কথা হলে এ প্রতিবেদকের কাছে এসব কথা প্রকাশ করেন বৃদ্ধা সাফিয়া বেগম।
জেলার মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডস্থ উত্তর সন্তোষপুর গ্রামের ভাড়াটিয়া বাসিন্দা মৃত নূর আলীর স্ত্রী সাফিয়া বেগম বলেন, তিনি বর্তমানে সন্তোষপুরের জয়নাল মিয়ার বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস করছেন। তার স্বামীর বাড়ি ছিল একই উপজেলার রামহর এলাকায়। তার চার ছেলের মধ্যে দুই ছেলে বিবাহ করে অন্যত্র বসবাস করছে। এক ছেলে মানুষিক ভারসাম্যহীন হয়ে নানাস্থানে ঘুরে বেড়ায়। ছোট ছেলেকে সাথে নিয়ে তিনি জীবনের চাবিকাটি পরিচালনা করছেন।
জীবিকার তাগিদে সাতছড়ি বনে আসতে হচ্ছে তাকে। বনের পরিত্যক্ত লাকড়ি কুড়িয়ে তিনি একত্র করে আঁটি বেঁধে বিক্রির জন্য তেলিয়াপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যান। দৈনিক লাকড়ি বিক্রি থেকে তার মাত্র ৫০ থেকে ৬০ টাকা আয় হয়। এ আয়ে তার জীবন জীবিকা চালাতে দুর্বিসহ অবস্থায় পড়তে হচ্ছে।
বিধবা ও বয়স্ক ভাতা পেলে তিনি কিছুটা হলেও স্বাছন্দে চলতে পারতেন। এখন পর্যন্ত এসব ভাতা তার ভাগ্যে জুটেনি। তিনি জানান, মেম্বার সাক্কন মিয়া নানান সময়ে রিলিফের চাল দিয়ে সহায়তা করে থাকেন।
এ ব্যাপারে মেম্বার সাক্কন বলেন, বিধবা ভাতার কার্ড ওয়ার্ডে মাত্র একটি পাই। তাকে এ কার্ড দেওয়ার জন্য আমার নজর আছে। আর বয়স্কভাতার কার্ড সরকারী নিময়মত দিতে হয়। সাফিয়া বেগমের বয়স যাচাই করে দেখে কার্ড দেওয়ার চেষ্টা করে যাব।


প্রকাশ: ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১০:০২:১৩ পুর্বাহ্ন



 
Advertise