আজ - সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং | ৭ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ: 

বৈরী আবহাওয়ায়ও আমনের ভাল ফলন

পাবনা প্রতিনিধি : এবার আমনের আশানুরুপ ফলন হয়েছে পাবনায়। বৈরী আবহাওয়ার মাঝেও ভাল ফলন পেয়ে খুশি কৃষক। আর ফলন ভাল হওয়ায় কৃষকের ঘরে ঘরে এখন নবান্ন উৎসবের আমেজ।
কৃষি বিভাগের মতে, বিরুপ আবহাওয়ার কারণে যে ক্ষতি হয়েছে, তা সামান্য। বরং লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ফলন পাওয়া গেছে।
জেলার সদর উপজেলার মালিগাছা, আটঘরিয়া উপজেলার বাঐকোলা, চাটমোহর উপজেলার চড়ইকোল, কাটাখালি, হরিপুর, লাউতিয়াসহ বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন ধান কাটা নিয়ে। দিনমজুররা ধান কেটে আঁটি বেঁধে মাথায় বয়ে কিংবা গাড়িতে করে নিয়ে যাচ্ছেন বাড়িতে। সেখানে বাড়ির উঠোনে অথবা মাঠের পাশে খোলা করে চলছে ধান মাড়াই করার কাজ। ধান মাড়াই, ধান উড়ানো ও শুকানোর কাজে কৃষকের সাথে হাত লাগাচ্ছেন কৃষানীরাও।
তবে ধান কাটতে দিনমজুর পাওয়া যাচ্ছেনা বলে জানালেন মালিগাছা গ্রামের কৃষক আবেদ আলী। বলেন, ‘৪০০ থেকে ৫০০ টাকা দিন হাজিরা দিয়েও কামলা পাওয়া যাচ্ছে না। তাই দ্রুত ধান কেটে বাড়িতে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।’
দেবোত্তর গ্রামের কৃষক সাদেক আলী জানান, এবার তিনি আশঙ্কায় ছিলেন বৃষ্টির কারণে ধান গাছ নুয়ে পড়ায় ফলন না জানি কেমন হয়। কিন্তু ধান কাটার পর ফলন পেয়ে খুশি তিনি। জানান, যতটা ক্ষতির ভয় করেছিলেন তা হয়নি।
চাটমোহর উপজেলার মহেষপুর গ্রামের প্রবীণ কৃষক শফিকুল ইসলাম ও ময়েজ উদ্দিন বলেন, ‘আমন ধান ঘরে ওঠার সময় শীত পড়া শুরু হয়। তখন আমন ধানের পিঠা-পায়েশ খাওয়ার জন্য আমাদের মধ্যে আয়োজন চলে। অনেক আত্মীয়-স্বজনও বেড়াতে আসে। সবাই তাদের মেয়ে-জামাইকে দাওয়াত করে নিয়ে আসে। নতুন ধানের পিঠাপুলি-পায়েস খাওয়ার উৎসব চলে।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিভূতি ভূষণ সরকার জানান, এবছর জেলায় রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৪৯ হাজার ৩২৫ হেক্টর, কিন্তু আবাদ হয়েছিল ৫২ হাজার ৪১২ হেক্টর জমি। সে হিসেবে ৩ হাজার ৮৭ হেক্টর জমিতে বেশি আবাদ হয়েছিল। অপরদিকে ফলনের লক্ষ্যামাত্রা ধরা হয় প্রতি হেক্টরে ৩.৬ মেট্রিকটন। এখন পর্যন্ত পাওয়া উৎপাদনের তথ্য মতে প্রতি হেক্টরে ৪ মেট্রিকটন করে ফলন মিলছে।
তিনি জানান, কেবল ধান কাটা শুরু হয়েছে। সব কাটা শেষ হলে ফলনের সর্বমোট তথ্য পাওয়া যাবে। আর ক্ষতির প্রসঙ্গে বিভূতি ভূষণ বলেন, ‘অতিবৃষ্টিতে যে ক্ষতি হয়েছে তা খুবই সামান্য। তবে ক্ষতি কাটিয়েও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ফলন পাওয়া যাবে ।’


প্রকাশ: ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ৯:০২:৫৭ পুর্বাহ্ন



 
Advertise