আজ - সোমবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ: 

শীতের সবজি আবাদে ব্যস্ত খুলনার দেড় লাখ কৃষক


খুলনা প্রতিবেদক: শীতের সবজি উৎপাদনে খুলনা জেলার দেড় লাখ চাষি এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন।বর্ষণে মৌসুমের প্রথম দফায় হোঁচট খাওয়ায় এ দফায় সে ক্ষতিটুকু পুষিয়ে নিতে চান তারা।
এ জেলার সবজি চাষিরা সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের বৃস্টিতে বীজতলা নস্ট হওয়ায় মৌসুমের প্রথম দফার উৎপাদনে ব্যর্থ হয়েছেন । চলতি মাসের শুরুতে লাল শাক, পালং শাক, মুলা ও ফুল কপির আবাদ শুরু করেছেন। আগামী মাসের শেষ দিকে বাজারে আসবে তাদের উৎপাদিত শীতের সবজি ।চলতি মৌসুমে খুলনার ৯ উপজেলায় ৪০০ কোটি টাকার সবজি উৎপাদন হবে বলে আশা করছেন এখানের সবজি চাষিরা ।
খুলনায় এবার আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃস্টিপাত হয়েছে। এতে করে একদিকে যেমন বেগুন, লাউ ও কাঁচা মরিচ গাছ নস্ট হয়েছে, পাশাপাশি বীজতলাও নস্ট হয়েছে। বৃস্টির কারণে ক্ষেতের সবজি নস্ট হওয়ায় বেগুন, লাউ, করলা, লাল শাক ও পালং শাকের দাম বেড়ে যায়। বাজারের চাহিদা মেটাতে কৃষক আগে ভাগেই বীজতলা তৈরি শুরু করেন। সেপ্টেম্বরের বৃস্টিতে সেই বীজতলা নস্ট হয়ে যায়। ডুমুরিয়া উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের চাষি ওলিয়ার রহমান শেখ জানান, তিনি বিটি বেগুনের চাষ করেছেন। গত বার ভালো উৎপাদন হওয়ায় এবার চাষের পরিধি বেড়েছে।
ফুলতলা উপজেলার পূর্ব মশিয়ালি গ্রামের চাষি ঈসা খাঁ  লাউ উৎপাদন শুরু করেছেন। গত বছর ৩২০০ গাছে প্রায় ৩ লাখ টাকার শাকই বিক্রি করেছেন বলে জানান তিনি।
মহানগরী সংলগ্ন তেলিগাতির চাষি মোকসেদ ফকির জানান, তিনি লাউ, করলা, টমেটো ও শসার চাষ করেছেন। ঘেরের আইলে টমেটো ভালো উৎপাদন হবে বলে তিনি আশাবাদি। এই কৃষক কীটনাশক মুক্ত সবজি উৎপাদন করেন।
ডুমুরিয়া উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা অরুনা মন্ডল জানান, কুলবাড়িয়া, মঠবাড়িয়া, চাকুন্দিয়া, গোবিন্দকাঠি, বরাতিয়া, আরশনগর, মাগুরঘোনা, বেতাগ্রাম, হাজিবুনিয়া, বান্দা, কালিকাপুর, সেনপাড়া, খর্ণিয়া ও ভদ্রাদিয়া গ্রামে ফুলকপি, শীম, টমেটো, বেগুন, মুলা, পাতাকপি ও পালং শাকের আবাদ হয়েছে।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, ৬৫ হাজার চাষি শীতের সবজি আবাদে ব্যস্ত।
পাইকগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এএইচ এম জাহাঙ্গীর আলম জানান, সাড়ে ৪৯ হাজার চাষি লাল শাক, মুলা, ফুলকপি, পাতাকপি, পালং ও টমেটোর আবাদ করেছে। উপজেলায় ৭০০ হেক্টর জমিতে শীতের আবাদ হয়েছে।
ফুলতলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিনা খাতুন জানান- আলকা, গাড়াখোলা, দামোদর, মশিয়ালি, ধোপাখোলা, যুগ্নিপাশা, বেজেরডাঙ্গা, জামিরা ও ছাতিয়ান গ্রামের ২০০ হেক্টর জমিতে লাউ, ওলকপি, টমেটো ও পাতাকপির চাষ হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্র মতে, এবার ৬ হাজার হেক্টর জমিতে শীতের সবজি চাষ হচ্ছে। উপজেলা পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ি, জেলায় ৪০০ কোটি টাকার সবজি উৎপাদন হবে এবার।
 


প্রকাশ: ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ৯:০২:০৩ পুর্বাহ্ন



 
Advertise