আজ - সোমবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ: 

মালদ্বীপের প্রধান বিচারপতি গ্রেপ্তার

নিউজ ডেস্ক : মালদ্বীপে রাজনৈতিক সংকট চরম রূপ নেওয়ার মধ্যে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত সোমাবার মালদ্বীপ সরকার দেশে জরুরি অবস্থা জারি করার কয়েক ঘণ্টা পর প্রধান বিচার আবদুল্লা সাইদকে গ্রেপ্তার করা হয়। আলী হামিদ নামে আরেক বিচারপতিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত বা অভিযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো         পৃষ্ঠা ২ কলাম ৩

হয়নি। কারারুদ্ধ রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীদের মুক্তি দিতে আদালত নির্দেশ দিলে প্রেসিডেন্ট আবদুল্লা ইয়ামিন তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং এর ফলে দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়। সরকারের এ পদক্ষেপকে ‘ক্ষমতার অবৈধ ব্যবহারের মাধ্যমে ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন’ বলে অভিযোগ করেছে বিরোধীরা। ২৬টি প্রবালপ্রচীর ও ১ হাজার ১৯২টি স্বতন্ত্র দ্বীপ নিয়ে গড়ে উঠেছে মালদ্বীপ। দেশটির অর্থনীতির একটি প্রধান উৎস পর্যটন। গত সপ্তাহে মালদ্বীপের সুপ্রিম কোর্ট একদল কারাবন্দি বিরোধী নেতাকর্মীকে মুক্তির নির্দেশ দেন। আদালতের রায়ে আরো বলা হয়, ২০১৫ সালে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদের বিচার ছিল অসাংবিধানিক। নাশিদ এখন নির্বাসনে আছেন।
আদালতের রায় বাস্তবায়নের পক্ষে দাঁড়ান দেশটির পুলিশ কমিশনার। কিন্তু তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেন প্রেসিডেন্ট আবদুল্লা ইয়ামিন। এ অবস্থায় ঘনীভূত রাজনৈতিক সংকট দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তায় ফেলে দেয়। এদিকে, প্রেসিডেন্ট  ইয়ামিনকে অভিশংসন বা ক্ষমতাচ্যুত করার যেকোনো পদক্ষেপ রুখে দিতে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
এ পরিস্থিতিতে গত সোমবার দেশে জরুরি অবস্থা জারি করলে সংকট আরো মারাত্মক রূপ নেয়। বিনা অভিযোগে গ্রেপ্তার করা ও গণজমায়েত নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে পুলিশের হাতে।
মালদ্বীপের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মামুন আবদুল গায়ুম বিরোধীদের পক্ষে সমর্থন দেওয়ায় তাকেও গৃহবন্দি করা হয়েছে। অনলাইন পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় গায়ুম তার সমর্থকদের উদ্দেশে বলেছেন, তিনি এমন কিছু করেননি, যার জন্য তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পরোয়ানা জারি করা হবে। তিনি সমর্থকদের শক্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে পুলিশ।
বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে নাশিদের বিচার নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়। এ সম্পর্কে নাশিদ  বলেছেন, সরকারের পদক্ষেপ ‘নির্লজ্জভাবে অবৈধ’ এবং ষড়যন্ত্রের শামিল।
নাশিদ বলেছেন, ‘এই সন্ত্রাসী ও অবৈধ শাসনের জবাব দেওয়ার মতো মালদ্বীপবাসীর যথেষ্ট শক্তি আছে।’ ‘প্রেসিডেন্ট ইয়ামিনের পদত্যাগ করা উচিত’ বলে দাবি করেছেন তিনি।
২০১৩ সালে প্রেসিডেন্ট ইয়ামিন ক্ষমতায় আসার পর থেকে বাকস্বাধীনতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ছাড়া বিরোধী নেতাকর্মীদের ধরপাকড় ও গণগ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘উন্নয়নের জন্য এসব সমস্যাসংকূল ও হতাশাজনক।’ তারা আরো অভিযোগ করেছে, আদালতের আদেশ মানতে ব্যর্থ হয়েছে পুলিশ এবং প্রেসিডেন্ট ইয়ামিন প্রধান বিরোধী নেতাকে হয় দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছেন না হয় কারাগারে ঢুকিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এক টুইটে মালদ্বীপ সরকারকে হুঁশিয়ার করে লিখেছে, ‘বিশ্ব সব দেখছে।’ যুক্তরাজ্যের সাবেক উপনিবেশ মালদ্বীপ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন জরুরি অবস্থা তুলে নিতে প্রেসিডেন্ট ইয়ামিনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে ক্ষতি ও সংসদীয় প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।


প্রকাশ: ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ৯:০২:০০ পুর্বাহ্ন



 
Advertise