আজ - সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং | ৭ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ: 

চা শ্রমিকদের ৫ টাকায় স্থাপিত স্কুলটি সুশিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে

মোঃ মামুন চৌধুরী,হবিগঞ্জ: জেলার চুনারুঘাট উপজেলার আহমদাবাদ ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকার আমু চা বাগান। এ বাগানের প্রায় ১৩০০ শ্রমিক রয়েছে। পুরোদিন বাগানে হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমের বিনিময়ে জনপ্রতি তারা পান ৮৫ টাকা। এরমধ্যে জনপ্রতি প্রতি সপ্তাহে ৫ টাকা অনুদান দেন। এ হিসাবে মাসে ২৬ হাজার টাকা জমা পড়ে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী এ টাকা দিয়ে তারা স্কুল পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তাই  ২০১২ সালে বাগানের ভেতরে প্রায় ৩ একর জমিতে উদয়ন উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছিল। শুরু থেকে এ পর্যন্ত এ স্কুল চা শ্রমিকদের মজুরীর ৫ টাকার অনুদানে পরিচালিত হয়ে আসছে। যদিও শুরুতে ৬ষ্ঠ শ্রেণি দিয়ে চালু হয় ১২০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে। বর্তমানে এ স্কুলের শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ৪৫০ জন। দিন দিন এ স্কুলের  শিক্ষার্থী বেড়েই চলেছে।
আমু, নালুয়া ও চন্ডিছড়া চা বাগান চা শ্রমিকদের সন্তানরা এ স্কুলে এসে পাঠ শ্রবণ করে সুুশিক্ষা গ্রহণ করতে পারছে। তারা ভাল রেজাল্ট করছে। ৯ জন শিক্ষক এসব শিক্ষার্থীদেরকে মানসম্মতভাবে পাঠদান করাচ্ছেন। এতে করে এ স্কুলটি চারপাশে সুশিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে।
শ্রমিকরা বেশীদূর পড়াশুনা না করতে পারলেও তাদের সন্তানদেরকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে চান, তাই স্কুলটি স্থাপিত হয়েছে বলে জানালেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক স্বপন মুন্ডা। তিনি বলেন- জনপ্রতি সপ্তাহে শ্রমিকদের ৫ টাকার অনুদানে স্কুল চালানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। তাই স্কুলের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাসে ৫০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেতন নেওয়া হচ্ছে। ভবন ও আসবাবপত্রের সংকটের মধ্যেও শ্রমিক সন্তানরা পড়াশুনা করছে। স্কুলের সীমানা প্রাচীর নেই।
তিনি বলেন- ২০১৭ সালে এ স্কুলটি সরকারীভাবে পাঠদানের অনুমতি পেয়েছে। বিশেষ করে স্কুলটি হওয়ায় শ্রমিক সন্তানদের পড়াশুনায় নতুন দিগন্ত তৈরী করেছে। শ্রমিক সন্তান ছাড়াও  আশপাশের গ্রামের শিক্ষার্থীরাও এখানে এসে পাঠ গ্রহণ করছে। তিনি স্কুলটির উন্নয়নে সরকারী অনুদানের আহবান জানিয়েছেন।
আলাপকালে কয়েক শ্রমিক বলেন- তারা তেমন একটা লেখাপড়া করতে পারেননি। এজন্য হাড়ভাঙ্গা শ্রম দিয়ে দৈনিক মজুরী মাত্র ৮৫ টাকা। এ টাকায় পুরো সংসার চালানো কঠিন। তারপরও কষ্টের মধ্যে দিন চালাতে হচ্ছে। তারা পরামর্শ করে নিজেদের মজুরী থেকে সপ্তাহে ৫ টাকা জমা দিচ্ছেন। এ টাকায় স্কুল পরিচালিত হওয়ায় আমাদের সন্তানরা আজ সুশিক্ষা গ্রহণ করতে পারছে।  তারা মনে করেন এ স্কুলটিতেই একদিন কলেজ প্রতিষ্ঠা হবে।
শিক্ষার্থী প্রতিমা ওঁরাও, জনিতা মুন্ডা, সুমা রায়রা বলেন- স্কুলটি হওয়ায় তারা সুশিক্ষা গ্রহণে বিরাট উপকার হয়েছে। তা না হলে অনেক পথ অতিক্রম করে অন্য এলাকায় গিয়ে পড়াশুনা করাটা কঠিন ছিল। তারা বলেন- সুশিক্ষা গ্রহণ করে দেশসেবায় নিজেদের আত্মনিয়োগ করতে চান।


প্রকাশ: ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ৮:০২:০৩ পুর্বাহ্ন



 
Advertise