আজ - সোমবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ: 

রেল সংযোগে অর্থায়নের অনিশ্চয়তা কাটছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: পদ্মা-রেল সংযোগ প্রকল্পে অর্থায়নে অনিশ্চয়তা কাটছে। এ প্রকল্পে ঋণের টাকা দিতে সম্মত হয়েছে চীন। সে দেশের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্টেট কাউন্সিল ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সম্প্রতি। ফলে বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারে থাকা প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আর উল্লেখযোগ্য কোনো বাধা থাকছে না। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, এ প্রকল্পে অর্থায়নে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীন। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাওয়ার পর ঋণ চুক্তি সই হবে। প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে দু-এক মাস লাগতে পারে। এর পরই অর্থছাড় হবে। এ ধরনের বড় প্রকল্পে ঋণ পেতে চীনের স্টেট কাউন্সিলের অনুমোদন লাগে। যে কারণে চুক্তি সইয়ে সময় লাগছে। প্রকল্পের ঋণ প্রস্তাব পর্যালোচনার পর গত সপ্তাহে অবশেষে কাউন্সিলের সভায় ঋণ অনুমোদন হয়েছে। ইআরডির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, কোনো প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় আড়াইশ’ কোটি ডলার বা আড়াই বিলিয়ন ডলার বা তার ওপরে হলে চীনের রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সর্বোচ্চ ফোরাম স্টেট কাউন্সিলের সম্মতি লাগে। এ কাউন্সিলের প্রধান থাকেন চীনের প্রেসিডেন্ট। এখানে অনুমোদন পেলে অর্থছাড় করে চীনের সরকারি এক্সিম ব্যাংক। এরই মধ্যে স্টেট কাউন্সিল ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে। শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। পদ্মা-রেল সংযোগ প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে চীন দেবে ৩১০ কোটি ডলার সমপরিমাণ ২৫ হাজার কোটি টাকা, যা মোট প্রকল্প ব্যয়ের ৭১ শতাংশ। অবশিষ্ট দশ হাজার কোটি টাকার জোগান দেবে বাংলাদেশ সরকার। পদ্মা সেতুর মূল কাজ এগিয়ে গেলেও রেল সংযোগ প্রকল্পে কাজ শুরু করা যায়নি এখনও। যোগাযোগ করা হলে পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের পরিচালক ফখরুউদ্দিন আহমেদ গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, আমরা চুক্তি স্বাক্ষরের অপেক্ষায়। এটি সম্পন্ন হলে প্রকল্প বাস্তবায়নে আর কোনো বাধা নেই। প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী সংস্থা রেল মন্ত্রণালয়। সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, পুরো রেললাইন স্থাপনে মোট দুই হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। প্রকল্প পরিচালক জানান, এর মধ্যে ৭০ ভাগ জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হয়েছে। ঠিকাদারকে জমি বুঝিয়ে দিতে তারা প্রস্তুত। ইআরডির কর্মকর্তারা বলেন, সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী কাজ শুরু করতে হলে মোট জমির ৫০ ভাগ ঠিকাদারকে বুঝিয়ে দিতে হবে। সেদিক থেকে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। জানা যায়, আলোচ্য প্রকল্পের দেখভাল করার জন্য সেনাবাহিনীকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঢাকা থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা হয়ে নড়াইল-যশোর পর্যন্ত ১৭২ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ করা হবে। পদ্মা সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ৩০ হাজার কোটি টাকা। আর পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে ব্যয়ের দিক থেকে এটি এখন পর্যন্ত যোগাযোগ খাতের সবচেয়ে বড় প্রকল্প। ২০২২ সালে পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা। পদ্মা সেতু ও পদ্মা-রেল সংযোগ প্রকল্পে মোট ব্যয় ৬৪ হাজার কোটি টাকা। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, পদ্মা সেতু ও সেতুর ওপর রেললাইন নির্মাণ সম্পন্ন হলে বাংলাদেশের চেহারা বদলে যাবে। অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। ফলে আরও গতিশীল হবে দেশের অর্থনীতি।


প্রকাশ: ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ৯:০২:৩৩ পুর্বাহ্ন



 
Advertise