আজ - শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৭ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ: 

ফয়জাবাদ স্কুল চা শ্রমিক কন্যাদের সুশিক্ষা গ্রহণে বিরাট ভূমিকা রাখছে

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : জেলার বাহুবল উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের রশিদপুর চা বাগান। এ বাগানের অতি কাছে ১৯৮১ সালে প্রায় দেড় একর জমির মধ্যে ফয়জাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়। জমিদান করে এ স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন পূর্ব ভাদেশ্বরের বাসিন্দা রফিজ উদ্দিন চৌধুরী। একটি ছনবাঁশের ঘর দিয়ে পাঠদানের কার্যক্রম শুরু হয়। সেই সময়ে বিষয়টি নজরে আসলে বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডেন্ট মানিক চৌধুরী এ স্কুলের ভবনের  জন্য ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ প্রদান করেন। এরপর আরেকটি ভবন নির্মাণ হয়।  
এখানে পাঠ নিতে  আসছেন রশিদপুর, কামাইছড়া, ফয়জাবাদ, চিতলাছড়া, আমতলীসহ বিভিন্ন চা বাগান শ্রমিক সন্তান ও সুন্দ্রাটিকিসহ তার আশপাশের গ্রামের শিক্ষার্থীরা। মানসম্মত শিক্ষাদানের ফলে দিন দিন স্কুলটিতে শিক্ষার্থী সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। বর্তমানে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদেরকে পাঠদান করাচ্ছেন ৯ জন শিক্ষক।
ভবন ও আসবাবপত্রের সংকটে শিক্ষা কার্যক্রমে সমস্যা সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নজরে আসে বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডেন্ট মানিক চৌধুরী কন্যা এমপি কেয়া চৌধুরীর। তিনি জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের কাছ থেকে বরাদ্দ নিয়ে এসে এ স্কুলে শহীদ মিনার নির্মাণ করে দেন। আসবাবপত্রের সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেন। সৌর বিদ্যুৎ প্রদান করেন। সর্বশেষ ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ নিয়ে আসেন। এ বরাদ্দে চারতলা ভবন নির্মাণ হচ্ছে।
তাই ২০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার দুপুরে তৃণমূল লোকজনকে সাথে নিয়ে এ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এমপি কেয়া চৌধুরী।
এ উপলক্ষে ফয়জাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হারুন আল রশিদের সভাপতিত্বে ও শিক্ষানুরাগী সদস্য সামিউল ইসলামের পরিচালনায় এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি কেয়া চৌধুরী বলেন, জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে বার বার উন্নয়ন নিয়ে আসছি। এসব বরাদ্দ নবীগঞ্জ-বাহুবলের স্থানে স্থানে জনকল্যাণে প্রদান করে যাচ্ছেন।
ধারাবাহিক উন্নয়নের এ পর্যায়ে ফয়জাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রায় সাড়ে ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে চারতলা বিশিষ্ট ভবনের একতলা নির্মাণের জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে এসে আনন্দ লেগেছে। ফয়জাবাদ স্কুল চা শ্রমিক কন্যাদের সুশিক্ষা গ্রহণে বিরাট ভূমিকা রাখছে।
তিনি বলেন, এমনিভাবে আমার পিতা  বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডেন্ট মানিক চৌধুরীও এ স্কুলের ভবন নির্মাণে বরাদ্দ দিয়েছিলেন। এবার আমি বরাদ্দ এনে দিলাম।  তাই এ দিনটি আমার কাছে স্বরণীয় হয়ে থাকবে।
তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার তৃণমূলে শিক্ষা প্রসারে নিরলসভাবে কাজ করছে। আর আমি নেত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে এ স্কুলে উন্নয়ন পৌঁছে দিয়েছি। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আবারো নৌকায় ভোট দিতে তিনি তৃণমূল জনগণের প্রতি জোরালো আববান জানিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কেয়া চৌধুরী কাজের মানুষ। তিনি কথা  বলার আগে উন্নয়ন করে দেন। সবার পাশে রয়েছেন। এ ধরণের জনপ্রতিনিধিই আমরা চাই। তাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাকে আমরা এ আসনে নৌকা প্রতীকের এমপি প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাই।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল কাদির চৌধুরী, ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী নূর মিয়া, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা হোসেন শাহ, সহকারী প্রকৌশলী এএকেএম মাহবুবুল আলম, আওয়ামীলীগ নেতা ফরিদ তালুকদার, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক অলিউর রহমান অলি, যুগ্ম-আহবায়ক মোশাহিদ আলী, ভাদেশ্বর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক আপ্তাব উদ্দিন, সন্তানকমান্ড নেতা শামিমুর রহমান, স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্য আব্দুর রউফ মায়া আলী, নাসিম উদ্দিন, সাবেক সদস্য সফর উদ্দিন, ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি সাইফুল ইসলাম, চা শ্রমিক নেতা পিয়ারী দাশ ও বিমল কর্মকার।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রসিত কুমার দেব। শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন- তাজুল ইসলাম মোল্লা, আকবর হোসেন। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন, রতন সরকার, সুলতানা আক্তার।
এছাড়া এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দসহ শিক্ষক, শত শত শিক্ষার্থী, অভিভাবক।
পরিশেষে অভিভাবক, শিক্ষক আর ছাত্রছাত্রীর মিলনমেলায় ২০১৫ সালে স্থাপিত শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এমপি কেয়া চৌধুরী।


প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ৮:০২:০৩ পুর্বাহ্ন



 
Advertise