আজ - রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ২ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ: 

সিরাজদিখানে এসি ল্যান্ডের স্বাক্ষর নকল করে নামজারী পর্চা সৃজনের অপরাধে আটক-২

সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে এসি ল্যান্ডের স্বাক্ষর নকল করে নামজারী পর্চা সৃজনের অপরাধে মোঃ বাবুল হোসেন (৩৫) ও মোঃ হাসেম শেখ (৫০)দের আটক করেছে পুলিশ। ২৭ ফেব্রুয়ারী বিকাল সাড়ে ৪টায় উপজেলা সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের সামনে ধৃত মোঃ বাবুল হোসেনের কম্পিটারের দোকান থেকে তাদের আটক করা হয়। এসি ল্যান্ডের স্বাক্ষর নকল করে পর্চা সৃজন করার অপরাধে সিরাজদিখান উপজেলা সহকারী (ভুমি) মোঃ নজরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে তাদের পুলিশে সোপর্দ করেন। তারা  উপজেলার আবিরপাড়া গ্রামের মোঃ বাচ্চুর ছেলে মোঃ বাবুল হোসেন ও মোঃ মনোরুদ্দিন শেখের ছেলে মোঃ হাসেম শেখ।
অন্যদিকে এসি ল্যান্ডের স্বাক্ষর নকল করে নামজারী পর্চা সৃজন চক্রের সহযোগী সদস্য মোঃ মেহেদী হাসান (২৯) এর কম্পিউটারের দোকান সিলগালা করেন সিরাজদিখান উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মোঃ নজরুল ইসলাম।
এসিল্যান্ডের স্বাক্ষর নকল করে নামজারী পর্চা সৃজনের অপরাধে ধৃত মোঃ বাবুল হোসেনকে ঘটনাস্থলে পুলিশ জিঞ্জসাবাদ করলে সে জানায়, আমি এই নামজারী পর্চা, ডিসিআর, দাখিলা সম্পূর্ণই সংগ্রহ করি মেহেদীর কাছ থেকে। কতদিন যাবৎ এই চক্রের সাথে জড়িত জিজ্ঞাস করলে  সে আরো জানায়, আমি প্রায় ৪ বছর যাবৎ মেহেদীর কাছ থেকে নামজারী পর্চা, ডিসিআর, দাখিলা সংগ্রহ করে আসছি। মেহেদীর কাছে এসিল্যান্ডের নকল সীল মোহর আছে কিনা পুলিশ জানতে চাইলে মোঃ বাবুল হোসেন বলে, মেহেদীর কাছে সবই আছে।
সিরাজদিখান উপজেলা সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল লিখক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমার কাছে এক লোক নামজারী নিয়ে আসলে খাজনার চেক কেটে আনলে কাগজপত্র সম্পূর্ণ সাব রেজিষ্টার স্যারের কাছে জমা দিলে স্যার এটাকে জাল কাগজ সন্দেহে ভুমি অফিসে পাঠালে এসি ল্যান্ড স্যার যাচাই বাছাই করে জাল বলে শনাক্ত করেন।
ঘটনার সময় উপস্থিত ওই এলাকার ইসমাঈল খান জানান, এক বছর আগে রশুনিয়ার এক লোকের কাজ এরকম কইরা দিছে পরে ঐ লোক আইছে পরে আমরা যাচাই বাছাই করতে নায়েব অফিসে গেলে পরে দেহা যায় এইটা দুই নম্বর। পরে ঐ লোকেরে জিগাইলাম এইটা কার কাছ থেকে করছেন? ঐলোক মেহেদীর দোকান দেহাইয়া দিলে তার টেকা ফেরৎ দিয়া দিছে মেহেদী।
সিরাজদিখান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, একজন ফোন করে জানালো একজন লোক এখানে দলিল করাতে এসেছে দাখিলা তার কাছে জাল মনে হয়েছে। দাখিলাটি আমার কাছে যাচাই করার জন্য পাঠিয়েছে। আমার কাছে পাঠানোর পর পরিক্ষা করে দেখলাম এই দাখিলায় যে তহসিল দারের স্বাক্ষর আছে সে ১ বছর আগে বদলী হয়ে চলে গেছে। এই দাখিলাটি সম্পূর্ণ ভাবে সৃজন করা। দাখিলাটির সাথে যে নামজারির পর্চাটি আছে সেটাতে যে এসিলেন্ড সাহেবের স্বাক্ষর আছে সেটা ২০০৮ সালে করা। এখানে ৩টি বিষয়ই সৃজিত। এখানে যে এসিল্যান্ডের স্বাক্ষর আছে সে ২০১৩ সালে এখানে এসিল্যান্ড ছিলেন। অথচ ২০০৮ সালে তার স্বাক্ষর জাল করে এই নামজারী পর্চা নকল করা হয়েছে এবং যে ডিসিআর দেখানো হয়েছে সেটাও সৃজন করা ২০০৮ সালে। এটার ফলে জিনি নিয়ে গিয়েছিলেন তাদেরকে আমরা আটক করেছি। আটক করার পর আরো খোজখবর নিয়ে জানলাম এটা কার কাছ থেকে করেছে। এখানে বাবু নামে একজনের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছি এবং আরো কয়েকজনের নামও আসছে। এটার জন্য আমরা নিয়মিত মামলা করার জন্য বলেছি। এখানকার যিনি দলিল লিখক আছেন তিনি অভিযোগ দায়ের করবেন। এটার সাথে যারা যারা জড়িত আছে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
এ ব্যাপারে সিরাজদিখা উপজেলা সাব রেজিষ্টার এবি এম নুর উজ্জামান জানান, খাজনা দাখিলায় যে অফিসারের স্বাক্ষর করার কথা তার স্বাক্ষরটা মিলতেছে না। একারণে আমি এটা চেক করার জন্য এসি ল্যান্ড অফিসে পাঠাই। এসি ল্যান্ড মহোদয় দেখে বুঝতে পারেন যে এটা জাল। সেইটার প্রেক্ষিতে আজকে এই জালিয়াতি চক্র ধরা পড়ল।


প্রকাশ: ১ মার্চ ২০১৮, ১০:০৩:৩২ পুর্বাহ্ন



 
Advertise