আজ - শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৭ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ: 

বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় স্থান

নিউজ ডেস্ক: বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য আকর্ষনীয় স্থান। বাংলাদেশে এখন চমৎকার বিনিয়োগের পরিবেশ বিরাজ করছে, দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা বিগত যেকোন সময়ের চেয়ে অনুকুল। বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগকারীদের আকর্ষনীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদান করছে। বিনিয়োগকারীরা এখন শতভাগ বিনিয়োগ করতে পারবেন, প্রয়োজনে বিনিয়োগকৃত শতভাগ অর্থ এবং লাভ ফিরিয়ে নিতে পারবেন। পণ্য রপ্তানি ক্ষেত্রে ডাবল টেক্স সিসটেম প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ১০০টি স্পেশাল ইকোনমিক জোনে হংকং-এর বিনিয়োগকারীগণ বিনিয়োগ করলে লাভবান হবেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুণ্যহাতে যুদ্ধবিদ্ধস্থ বাংলাদেশ পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন। এ মার্চ মাসেই বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে রক্তক্ষয়ীযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করেছিল। বাংলাদেশ ১৯৭২-৭৩ সালে ২৫টি পণ্য ৬৮টি দেশে রপ্তানি করে আয় করতো ৩৪৮.৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিশে^র প্রায় ১৯৯টি দেশে ৭৪৪টি পণ্য রপ্তানি করে আয় করছে প্রায় ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২১ সালে বাংলাদেশ হবে ডিজিটাল মধ্য আয়ের দেশ। এ সময় মোট রপ্তানির পরিমান দাঁড়াবে ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এরমধ্যে তৈরী পোশাক রপ্তানি করে আয় হবে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ব্যাংকে বৈদেশিক মূদ্রার রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি, রেমিটেন্স আসছে প্রায় ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দেশের অর্থনীতি দ্রত এগিয়ে যাচ্ছে। বড়বড় প্রকল্প বাংলাদেশ সরকার নিজ অর্থে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী ৮ মার্চ হংকং-এর হোটেল শেরাটন এইচকে-তে প্রাইম সোর্স ফোরাম আয়োজিত দুইদিনব্যাপী “১৩তম প্রাইম সোর্স ফোরাম”এ ‘দি গ্লোবাল ফ্যাশন ইন্ডাষ্ট্রি এন্ড ইকোনমিক অপরচুনিটিস ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক কীনোট উপস্থাপনের সময় এসব কথা বলেন।  
তোফায়েল আহমেদ বলেন,  বাংলাদেশ বিশে^র মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরী পোশাক রপ্তানি কারক দেশ। দেশের রপ্তানির প্রায় ৮১ ভাগ আসে তৈরী পোশাক রপ্তানি থেকে। জিডিপিতে এ সেক্টরের অবদান প্রায় ১৩ ভাগ। এ শিল্পে জনবল প্রায় ৫০ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ৮০ ভাগই নারী। দেশের তৈরী পোশাক কারখানাগুলোকে অত্যাধুনিক করে গড়ে তোলা হয়েছে। ইউএসগ্রীন বিল্ডিং কাউন্সিল স্বীকৃত ৬৭টি গ্রীন ফ্যাক্টরি রয়েছে। নিবন্ধিত রয়েছে আরো ২২০টি। এবার ইউএস গ্রীন বিল্ডিং কাউন্সিল যে ১০টি তৈরী পোশাক ফ্যাক্টরিকে এনার্জি এন্ড ইনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন(এলইইডি) সার্টিফিকেট দিয়েছে তারমধ্যে বাংলাদেশের ৭টি রয়েছে। এরমধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান দখলকারী প্রতিষ্ঠান তিনটিও বাংলাদেশের। বাংলাদেশের তৈরী পোশাক খাত এখন শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে বাংলাদেশ শুধু ডিজিটাল মধ্যম আয়ের দেশই হবে না, বাংলাদেশ এলডিসিভুক্ত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিনত হবে। ডেভলপিং কান্ট্রিতে পরিনত হতে যে তিনটি শর্ত পূরণ করতে হয়, তা বাংলাদেশ অর্জন করেছে। প্রথমত ঃ মাথাপিছু আয় ১২৪২ মার্কিন ডলার হতে হয়, বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ১৬১০ মার্কিন ডলার। দ্বিতীয়ত ঃ মানব সম্পদের উন্নয়ন অর্থাৎ দেশের ৬৬ ভাগ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হতে হয়, বর্তমানে বাংলাদেশের ৭২.৯ ভাগ মানুষের জীবনযাত্রার মানের উন্নতি হয়েছে। তৃতীয়ত ঃ অর্থনৈতিক ভাবে ভঙ্গুর না হওয়ার মাত্রা ৩০ ভাগের নীচে হতে হয়, বাংলাদেশে এ মহুর্তে তা ২৫ ভাগ। বিশে^র ইকোনমিক ও সোস্যাল কাউন্সিল উল্লিখিত তিনটি বিষয় বিবেচনা করে কোন দেশকে নি¤œমধ্য আয়ের দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল (ডেভলপিং) দেশে পরিনত হবার ঘোষণা দেয়। চলতি মার্চ মাসে এ কান্সিলের মূল্যায়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রমানিত হয়েছে বাংলাদেশ তলাবিহীন ঝুড়ি বা দরিদ্র দেশের রোল মডেল নয়। বাংলাদেশ সম্ভাবনাময় দেশ। দেশের ৮৯ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে, শতভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধা দিতে বেশি সময় প্রয়োজন হবে না। ২০৪০ সালে বাংলাদেশ বিশে^র মধ্যে ২৮তম অর্থনীতি এবং ২০৫০ সালে।


প্রকাশ: ৯ মার্চ ২০১৮, ৮:০৩:৩৯ পুর্বাহ্ন



 
Advertise