আজ - শনিবার, ২৩ জুন, ২০১৮ ইং | ৯ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ: 

জামিন আবেদনের আদেশ আজ ‍॥ খালেদা জিয়ার মামলার নথি হাইকোর্টে

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দুর্নীতির দায়ে সাজা দেয়া মামলার রায়ের নথি নিম্ন আদালত থেকে গতকাল বেলা ১টার দিকে হাইকোর্টে পৌঁছেছে।  জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে বেগম খালেদা জিয়া গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে আটক রয়েছেন। খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা জানান, ৫ হাজার ৩৭৩ পৃষ্ঠার নথিটি টিনের বাক্সে তালাবন্দি অবস্থায় হাইকোর্টের ডেসপাচ শাখার কর্মকর্তা কে এন ফারুক হোসেন গ্রহণ করেছেন। ডেসপাচ শাখা থেকে নথি যাবে হাইকোর্টের ফৌজদারি আপিল শাখায়। তবে, হাইকোর্টে নথি পৌঁছার আগেই বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল সকালে খালেদার জামিন আদেশ দেয়ার নির্ধারিত সময় আগামীকাল দুপুর ২টা পর্যন্ত পিছিয়ে দিয়েছেন। খালেদা জিয়ার আইনজীবী সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি জয়নাল আবেদীন আদালতে বলেন, হাইকোর্টের এখতিয়ার রয়েছে নথি ছাড়াই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আদেশ দেয়ার।  এ পর্যায়ে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক এম ইনায়েতুর রহিম বার সভাপতিকে বলেন, আপনি যে এখতিয়ার প্রয়োগের কথা বলেছেন, সেটা করার সুযোগ আমাদের রয়েছে। কিন্তু তার আগে দেখতে হবে, আমরা যে আদেশ দিয়েছিলাম, সেটা কীভাবে বাস্তবায়ন হয়েছে। নিম্ন আদালত থেকে ১৫ দিনের মধ্যে নথি তলব করে গত ২২ ফেব্রুয়ারি আদেশ দেয়া হয়েছিল। গত ২৩ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি ছিল সরকারি ছুটির দিন। সেই হিসেবে ২৫ ফেব্রুয়ারি আদেশের অনুলিপি পেয়ে থাকলে আজ ১৫ দিনের সময় সীমা শেষ হওয়ার কথা।
আদালতে খালেদার পক্ষে আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী, মওদুদ আহম্মদ, খন্দকার মাহাবুব হোসেন ও কায়সার কামাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটনি জেনারেল মাহবুবে আলম। আর দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আখতারুজ্জামান সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদ- দেন। আর তার ছেলে তারেক রহমানসহ অপর পাঁচ আসামীকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদ- দেয়া হয়। সেই সাথে খালেদা, তারেকসহ সবাইকে মোট ২ কোটি ১০ লক্ষ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা ৮০ পয়সা জরিমানা করা হয়। রায়ের পর আদালত থেকেই খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। এরপর গত ২০ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন খালেদা জিয়া। পরবর্তীতে গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ খালেদা জিয়ার করা আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন এবং এই মামলায় খালেদা জিয়াকে বিচারিক আদালতের করা গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ওই রায়ের অনুলিপি  পাওয়ার পর গত ২০ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে আপিল দাখিল করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। এরপর গত ২২ ফেব্রুয়ারি আপিল গৃহীত হওয়ার পর গত ২৫ ফেব্রুয়ারি জামিন আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, মামলাটিতে খালেদা জিয়ার বড় ছেলে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পাঁচ আসামি ১০ বছর করে কারাদ-াদেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রায়ে আসামিদের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা ৮০ পয়সা জরিমানা করা হয়। অপর ৪ আসামি হলেন-প্রাক্তন এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রাক্তন সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। এদের মধ্যে তারেক রহমান, কামাল সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান পলাতক রয়েছেন।
ওদিকে, নাইকো দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনসংক্রান্ত পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৯ এপ্রিল দিন ধার্য করেছে আদালত।
আদালত সূত্র জানায়, ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে কানাডার কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তি করে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা ক্ষতির অভিযোগে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর রাজধানীর তেজগাঁও থানায় খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে এ মামলাটি রুজু করে দুর্নীতি দমন কমিশন।
দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক (বর্তমানে উপপরিচালক) এসএম সাহিদুর রহমান তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ৫ মে এ মামলার চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়।




 


প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০১৮, ৮:০৩:১২ পুর্বাহ্ন



 
Advertise