আজ - মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ১০ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ: 

এ কেমন মানসিকতা

ফয়েজুল কবির সজিব
একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে একের অধিক ডিপার্টমেন্ট থাকে। সেখানে যোগ্যতার স্বাক্ষর দেখিয়ে নিজের অবস্থান তৈরি করে নিতে হয়। একজন শিক্ষার্থী বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করে এসে সে বিজ্ঞান অনুষদে ভর্তি হয়। এভাবে ব্যবসায় শিক্ষা, মানবিক বিভাগ থেকে আসা শিক্ষার্থীরা তাদের বিভাগ অনুযায়ী অনুষদে ভর্তি হয়। ভর্তি হওয়ার পর প্রায়শই একটা বৈষম্য চোখে পড়ে। সেটা হচ্ছে একজন কম্পিউটার সাইন্স নিয়ে পড়াশোনা করছে তার পাশের জন দর্শন কিংবা সমাজ বিজ্ঞান এসব নিয়ে। যে শিক্ষার্থীটা কম্পিউটার সাইন্স নিয়ে পড়ছে সে দর্শন কিংবা সমাজ বিজ্ঞান নিয়ে পড়া শিক্ষার্থীটার দিকে অন্যরকম দৃষ্টিতে তাকায়। মাঝে মাঝে দেখা যায়, একজন আরেকজনকে বলেও ফেলে এসব ডিপার্টমেন্টে পড়ে তোর ভবিষ্যত কি? তখন নিজেকে স্থির করা কতটা কঠিন সেটা যে মানুষটা এই প্রশ্নের সম্মুখীন হবে সেই ভালো বলতে পারবে।
একটা সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে এসব বিষয় যে কতটা জরুরি সেটা সবাই এড়িয়ে যায়। এগুলোকে সমাজের মেরুদ- হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অথচ হায়! এসব নিয়ে ভাবার কারোর সময় নেই।
তবে আমি কম্পিউটার সাইন্স নিয়ে পড়া শিক্ষার্থীকে কোনো ধরনের দোষ দিতে পারছি না। আমাদের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা অনেকটাই পাল্টে গেছে। সঙ্গে আমাদের সোনার হরিণ হিসেবে চিহ্নিত হওয়া ভালো চাকরি আর আমাদের মন-মানসিকতা।
বৈষম্য আরো অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়। একজন দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে পাস করা অপরজন অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে। ভাইভাতে দেখা যায়, কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই না করে ধরেই নেওয়া হয়- যে শিক্ষার্থীটা দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে আসছে সে অধিক যোগ্যতাসম্পন্ন আর অপরজন?
আমাদের উচিৎ যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়া তারপর অন্য কিছু। অথচ আমাদের এই নেতিবাচক মনোভাবের জন্য পিছিয়ে পড়ছে সমাজ তথা দেশ। যা একটা রাষ্ট্রের ভবিষ্যতের জন্য হুমকিস্বরূপ।

লেখক : শিক্ষার্থী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

 


প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০১৮, ১০:০৩:৩৮ অপরাহ্ন



 
Advertise