আজ - বুধবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৮ ইং | ২ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ: 

রাসায়নিক হামলায় সিরিয়ায় মৃত অন্তত ৭০

নিউজ  ডেস্ক : রাসায়নিক হামলায় পূর্ব সিরিয়ায় মৃত্যু হল অন্তত ৭০ জনের। বিদ্রোহীদের কবলে থাকা দওমা শহরে এই হামলা চালানো হয়। উদ্ধারকার্য বাহিনী ‘হোয়াইট হেলমেট’ জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তাদের দাবি, সেনা হেলিকপ্টার থেকে ব্যারেল বোমায় টক্সিক নার্ভ এজেন্ট ‘সারিন’ পুরে আকাশ থেকে মাটিতে ফেলা হয়। বোমাটি বিদ্রোহীদের গোপন ঘাঁটিতে ফেলা মাত্রই বিষাক্ত গ্যাসের ছোবলে মুহূর্তে কয়েক হাজার মানুষ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাঁদের মধ্যে অল্প কয়েকজনকেই এখনও পর্যন্ত হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া গিয়েছে। দামাস্কাস গ্রামীণ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৭০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা কর্তৃক প্রকাশিত ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ওই গোপন ঘাঁটিতে বহু শিশু, মহিলা ও পুরুষের মৃতদেহ এখনও পড়ে রয়েছে। অনেককে এখনও চিহ্নিতই করা যায়নি। সিরীয় সরকার অবশ্য এই হামলাকে রাসায়নিক হামলা বলতে রাজি নয়। কিন্তু মার্কিন গোয়েন্দারা সে দাবি উড়িয়ে বলছেন, ক্ষমতাসীন আসাদ সরকার রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করে বিদ্রোহীদের গোপন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে কয়েকশো শিশু ও মহিলাকে। মার্কিন গোয়েন্দাদের অভিযোগ, হামলার পিছনে রুশ সরকারের প্রত্যক্ষ সমর্থন রয়েছে। সিরিয়া সরকার এই হামলার দায় এড়াতে পারে না বলে সতর্ক করে দিয়েছে আমেরিকা। এক বিবৃতিতে মার্কিন সেনা জানিয়েছে, এই একই ধাঁচে এর আগেও সিরিয়া নিজের দেশের মানুষের উপরেই হামলা চালিয়েছে।
একাধিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও নজরদারি কমিটি এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছে। কিন্তু মৃতের সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। হোয়াইট হেলমেটের কর্তাদের অনুমান, মৃতের সংখ্যা ১৫০ জনেরও বেশি। মতভেদে, মৃতের সংখ্যা ১০০০ ছাড়িয়েছে। কিন্তু বেশিরভাগ দেহই ওই ঘাঁটি থেকে উদ্ধার করা যাচ্ছে না। সরকার ও বিদ্রোহীদের মধ্যে চলা তীব্র সংঘর্ষে উদ্ধারকার্য ব্যাহত হচ্ছে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে আহতদের মুখ থেকে গ্যাঁজলা বেরোতে দেখা যায়। চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন, ক্লোরিন বা অন্য কোনও বিষাক্ত নার্ভ গ্যাস ছাড়া এভাবে কারও দেহে বিষ ঢুকতে পারে না। যদিও সিরিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থার দাবি, বিদ্রোহীদের দমনপীড়নের খবর ঢাকতেই জইশ আল-ইসলাম নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা রাসায়নিক হামলার ভুয়ো খবর ছড়াচ্ছে। তবে সিরিয়ার আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে রাসায়নিক গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগ নতুন নয়। ২০১৩ থেকে তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহীদের উপর মারণ গ্যাস প্রয়োগের অভিযোগ রয়েছে। উদ্ধারকর্মী ও চিকিৎসকরা বলছেন সিরিয়ার পূর্ব ঘুটার বিদ্রোহী অধ্যূষিত দৌমা শহরে বিষাক্ত গ্যাস আক্রমণের ফলে অন্তত ৭০ জন নিহত হয়েছেন। স্বেচ্ছাসেবী উদ্ধারকারী সংস্থা ‘হোয়াইট হেলমেট’ একটি বেজমেন্টে মরদেহের ছবি সহ একটি টুইট করে। টুইটে বলা হয় যে মৃতের সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই তথ্য অন্য কোনো উৎস থেকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সিরিয়া সরকার রাসায়নিক হামলার এই অভিযোগকে “অতিরঞ্জন” বলে দাবী করেছে। এর আগে করা এক টুইটে হোয়াইট হেলমেট দাবী করেছিল মৃতের সংখ্যা ১৫০ জন। পরে ঐ টুইটটি মুছে ফেলা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে তারা সাম্প্রতিক আক্রমণ সম্পর্কে “খুবই পীড়াদায়ক” তথ্য পাচ্ছে। তারা আরও বলেছে রাসায়নিক হামলা ব্যবহার করা হয়ে থাকলে সিরিয়ার মিত্র হিসেবে যুদ্ধ করা রাশিয়াকে দায়ী করা উচিৎ। পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় বলেছে, “নিজেদের লোকদের ওপর রাসায়নিক অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করার ইতিহাস রয়েছে রাশিয়ার। অগণিত সিরিয়ানদের ওপর রাসায়নিক হামলা করার দায় নিতে হবে রাশিয়াকে। সরকার বিরোধী ‘ঘুটা মিডিয়া সেন্টার’ টুইট করেছে যে এক হাজারের বেশী মানুষ এই রাসায়নিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা বলছে একটি পিপের মধ্যে করে হেলিকপ্টার থেকে ফেলা একটি বোমা ফেলা হয় সেখানে। ঐ পিপেতে বিষাক্ত রাসায়নিক সারিন ছিল বলে বলা হচ্ছে। পূর্ব ঘুটা অঞ্চলের একমাত্র বিদ্রোহী অধ্যূষিত শহর দৌমা বর্তমানে সরকারি বাহিনী অবরোধ করে রেখেছে। একাধিক চিকিৎসা সেবাদানকারী, পর্যবেক্ষক ও উদ্ধারকর্মীরা রাসায়নিক হামলার সত্যতা যাচাই করেছেন। তবে কতজন নিহত হয়েছেন ও ঠিক কি হয়েছে তা নিয়ে বিস্তারিত জানা যাচ্ছে না। সিরিয়ার হাসপাতালের সাথে কাজ করা যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক দাতব্য সংস্থা ‘ইউনিয়ন অব মেডিক্যাল রিলিফ অর্গানাইজেশন্স’ দামাস্কাস রুরাল স্পেশালিটি হাসপাতালের বরাত দিয়ে বিবিসিকে নিশ্চিত করেছে যে ৭০ জন নিহত হয়েছেন। একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন সরেজমিন অনুসন্ধান থেকে ধারণা করা হচ্ছে যে অন্তত ১৮০ জন মারা গেছে। তবে ক্রমাগত বোমাবর্ষণের কারণে এই সংখ্যা নিশ্চিতভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।রাসায়নিক হামলার অভিযোগ ওঠার পর সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা বলেছে এই প্রতিবেদন দৌমার দখল নেয়া জাইশ আল-ইসলাম বিদ্রোহীদের তৈরী। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বলেছে, “জাইশ আল-ইসলাম সন্ত্রাসীরা পতনের মুখে আছে। তাই তাদের সমর্থিত সংবাদ মাধ্যমগুলো সিরিয়ান আরব সেনাবাহিনীর অভিযান থামানোর উদ্দেশ্যে গ্যাস আক্রমণের মিথ্যা খবর ছড়াচ্ছে। পূর্ব ঘুটার শেষ বিদ্রোহী অধ্যূষিত শহর দৌমা। রাশিয়া সমর্থিত সিরিয়ান সরকারি সেনাবাহিনী ঘেরাও করে আছে শহরটি। বিদ্রোহীদের সাথে মস্কোর একটি আলোচনা বিফল হলে শুক্রবার থেকে তীব্র মাত্রার অভিযান শুরু হয় সেখানে।আলোচনা বিফল হওয়ার আগে জাইশ আল-ইসলাম তাদের সদস্যদের দৌমার নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে রাখার জন্য প্রস্তাব করেছিল। যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সংস্থা সিরিয়ান অবজার্ভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস নামের পর্যবেক্ষক দল বলেছে সরকারি বাহিনীর বিমান হামলায় শুক্রবার ৪০ জন বেসামরিক ব্যক্তি নিগত হয়েছেন। শনিবার নিহত হয়েছেন আরো ৩০ জন। সিরিয়ার সরকারি গণমাধ্যম বলেছে বিদ্রোহীদের বোমাবর্ষণে রাজধানী দামেস্কে ৬ জন নিহত হয়েছে ও ৩৮ জন আহত হয়েছে। জাইশ আল-ইসলাম এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া অভিযানে অন্তত ১৬০০ মানুষ নিহত হয়েছে আর আহত হয়েছে হাজারেরও বেশি।




 


প্রকাশ: ৯ এপ্রিল ২০১৮, ৯:০৪:৫৫ পুর্বাহ্ন



 
Advertise