আজ - বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ইং | ৩ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ: 

হবিগঞ্জের হাওরজুড়ে কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক

মো. মামুন চৌধুরী,হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জ জেলার বিশাল অঞ্চল নিয়ে হাওর। একইভাবে রয়েছে পাহাড়ও। হাওরবাসীর কাছে বছরে বোরো ধানের ফলনই বেশী গুরুত্বপূর্ণ। যদিও তারা অন্যান্য ফসলও চাষ করে থাকেন। বোরো ধানের মাধ্যমে তাদের পুরোবছর চলতে হয়। গত মৌসুমে বন্যায় এ ফসলটি তলিয়ে যায়। এতে কৃষকদের মাঝে শুরু হয়েছিল হাহাকার। অবশেষে মনে অনেক আশা নিয়ে এ মৌসুমে কৃষকরা বোরো ধানের চাষ করেন।
এ আশা বিফলে যায়নি, হাওর ও সমতল এলাকাজুড়ে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।  জেলার বৃহত গুঙ্গিয়াজুরী হাওর ঘুরে দেখা গেছে বোরো ধানের বাম্পার ফলনের দৃশ্য।
স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কয়েকদিন হলো বোরো ধান কর্তন শুরু হয়েছে। পুরোদমে শুরু হতে সপ্তাহখানেক লেগে যাবে। এর প্রায় ২০ দিন সময় পেলেই ধান সংগ্রহ প্রায় সম্পন্ন হবে।    
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, ধান কর্তন শুরু হয়েছে। কৃষকরা সকাল হলে শ্রমিক নিয়ে জমিতে ধান গাছ কর্তন করছেন। আর বিকেলে মাড়াই করছেন। এসবের মধ্যে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। এ মৌসুমে জেলার সর্বত্র বোরো ধানের আশানুরুপ ফলনে কৃষকের মুখে মুখে এখন হাসির ঝিলিক দেখা দিয়েছে।
তিনি জানান, এ মৌসুমে জেলার হাওরসহ বিভিন্নস্থানে কৃষকরা প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ করেন। যদিও হবিগঞ্জ কৃষি বিভাগ থেকে এর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয় ১ লাখ ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে।
তিনি বলেন,  চাষাবাদে চাষিরা নিয়মিত পানি আর সুলভমূল্যে সার পেয়েছেন। তারমধ্যে আবার এ মৌসুমে পোকা মাকড়ের আক্রমণও ছিল নিয়ন্ত্রণে। সবমিলিয়ে পরিবেশ অনুকূলে থাকায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে বোরো ধান রোপন করেন কৃষকরা। আবার এসব জমিতে চমৎকার ফলনও পেয়েছেন তারা।
এ ব্যাপারে শায়েস্তাগঞ্জের কাজীরগাঁয়ের কৃষক সজল মিয়া বলেন, ফলন ভাল হয়েছে। ধান কাটা চলছে। মাড়াই করা ধান সিদ্ধ দিয়ে চাল করার ব্যবস্থা করছি। নতুন ধানের ভাত খেতে অনেক স্বাদ।
তিনি বলেন,  মেশিনের কারণে ধান মাড়াই পূর্বের চেয়ে  সহজ হয়েছে। তাই বোরো ধান শুকানো ও চাল করা নিয়ে তেমন একটা ভাবতে হচ্ছে না। আর বর্তমানে বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা কম। তাই বাড়ির পাশে রোদে ধান শুকাতে সমস্যা হচ্ছে না।
বাহুবলের হাওর এলাকার চাষি কুটি  মিয়া বলেন, বোরো চাষে ঝুঁকি বেশী। তারপরও এবার ভাল ফলন হয়েছে। ধান কাটা শুরু করেছি। মাড়াই করা ধান রোদে শুকিয়ে গোলায় মজুদ করে রাখার ব্যবস্থা করছি। খাবারের জন্য কিছু ধান সিদ্ধ করে তৈরি করছি চাল। তিনি জানান, এখন ধান বিক্রি করবেন না। কারণ সঠিক মূল্য নাও পেতে পারেন। ধান শুকিয়ে গোলায় রাখছেন, পরে ভাল মূল্য দেখে বিক্রি করবেন।
চুনারুঘাটের উবাহাটা এলাকার কৃষক সুমন মিয়া বলেন, ফলন আশানুরুপ। ধান কাটা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে শ্রমিক সংকট রয়েছে। তারপরও শ্রমিক সংগ্রহ করে পুরোদমে ধান কেটে মাড়াই করা ধান সংরক্ষণে রাখছি। এভাবে জেলাজুড়ে কৃষকরা বোরো ধান কর্তন নিয়ে মহাব্যস্ত সময় পার করছেন।


প্রকাশ: ৯ এপ্রিল ২০১৮, ১১:০৪:১৭ অপরাহ্ন



 
Advertise