আজ - বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ইং | ৩ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ: 

সাতছড়ি ত্রিপুরা পল্লী রক্ষায় এগিয়ে এলেন ব্যারিস্টার সুমন

মোঃ মামুন চৌধুরী,হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান অবস্থিত। এ উদ্যানের টিলায় বসবাস করছে প্রায় ২২টি আদিবাসী পরিবার।  গত বছরের অতিবর্ষনে এ টিলার এক পাশ ধসে পড়েছে ছড়ায়। এতে করে তিনটি পরিবার আপন ভিটে ছাড়তে হয়েছে। অবশ্য তারা এ টিলারই অন্যত্র গিয়ে ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছে। সেই মান্দাতার আমল থেকে এ টিলায় আদিবাসী পরিবারগুলোর বসবাস। টিলা ধসে পড়ায় এ পল্লীটি হুমকীতে ছিল। রক্ষায় তেমন কেউ এগিয়ে আসছিলেন না।
এ বিষয়টি জেনে আদিবাসী পল্লীটি রক্ষায় এগিয়ে এলেন আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। তিনি নিজ পকেটের টাকা দিয়ে ধসে যাওয়া টিলাটি মেরামত করে দিচ্ছেন। এতে করে পল্লীবাসীর মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। তাই ব্যারিস্টার সুমনের প্রতি তারা গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বলে উদ্যানের ত্রিপুরা পল্লীর হেডম্যান চিত্ত রঞ্জন দেববর্মা এ প্রতিবেদকের কাছে জানিয়েছেন।
আলাপকালে তিনি বলেন, পাহাড়ে আমাদের জন্ম। মৃত্যুও যেন এখানেই হয়। এ স্থানটা আমাদের কাছে প্রিয়। পাহাড় রক্ষায় আমাদের আপ্রাণ চেষ্টা। আমরা টিলা কাটি না। টিলা রক্ষায় কাজ করি। তবে টিলা কাটা চক্রের কাছে আমরা অসহায়। জন্মের পর ছড়াগুলো দেখলাম ছোট। দিন দিন হচ্ছে বড়। বাকী দিনে কি হবে, অজানাই রয়ে গেল। আমাদের বসবাস পাহাড়ের টিলার উপরে। টিলার উপরটায় বসবাস নিরাপদ মনে করি। আর সবাই মিলেমিশে একত্রে থাকি।  আমাদের পূর্ব পুরুষরা পাহাড়ের নির্জন এলাকার টিলায় বসবাস করছিলেন।
দেশ স্বাধীনের পর সরকারী সিদ্ধান্তে বনবিভাগ আমাদেরকে বনের এক পাশে অবস্থিত সড়কপথের কাছের এ টিলায় বসবাসের ঠিকানা করে দেয়।  সেই থেকে এখানে বসবাস করছি। কিন্তু আমাদের বসবাসের টিলার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ছড়া থেকে বিভিন্ন চক্রের সদস্যরা নানা সময়ে বালু উত্তোলন করেছেন। তাই ধীরে ধীরে টিলা ধসে ছড়া নিমজ্জিত হচ্ছে। ছড়া হচ্ছে প্রশস্থ। টিলা হচ্ছে সংকীর্ণ। তার সাথে আমাদের বসবাস হয়ে পড়ছে হুমকীতে। আর এ টিলায় যাবার ব্রিজটিও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।  
তিনি জানান, টানা বৃষ্টিপাতে পল্লীর টিলাটি শুধু ধসে ছড়ায় পড়েনি। উদ্যানের অন্যান্য ছড়ায়ও টিলা ধসে পড়ছে। সেইসব টিলা দিন দিন নিমজ্জিত হয়ে পড়ে ছড়াগুলোও প্রশস্থ হচ্ছে। তার সাথে অনেক প্রাচীন গাছগুলো ভেঙ্গে পড়ছে। বেশী কিছু বলতে চাই না।  পাহাড় রক্ষায় সবাই এগিয়ে আসার আহবান জানাচ্ছি। আর বলছি, পাহাড় রক্ষা না হলে প্রকৃতিতে বসবাস করতে সবারই সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
উদ্যানের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেল, ছোট ছোট টিলা ধসে পড়েছে। টিলার পাশের ছড়াগুলোর প্রশস্থ হচ্ছে। গোড়ায় মাটি সরে গিয়ে বৃক্ষ ভেঙ্গে পড়েছে। তার সাথে টিলা ধসে পড়ায় আদিবাসী ত্রিপুরা পল্লীটি হুমকীর মুখে রয়েছে। যেকোন সময়ে আবারও টিলা ধসে যেতে পারে। ঠিক এ সময়ে ব্যারিস্টার সুমন আদিবাসী পল্লীর বসবাসের স্থান টিলা রক্ষায় এগিয়ে এসে মহত্বের পরিচয় দিলেন বলে অনেকেই মন্তব্য করছেন।  
সাতছড়ি বন্যপ্রাণি রেঞ্জ কর্মকর্তা মাহমুদ হোসেন বলেন, ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এ উদ্যানটি প্রিয় হয়ে উঠেছে। কারণ এখানে যাতায়াত সহজ। এখারে নির্মল প্রকৃতিতে বন্যপ্রাণির বিচরণ রয়েছে। ছায়া বৃক্ষগুলো চির সবুজ। তবে গতবছর টানা বৃষ্টিপাতে এখানের ত্রিপুরা পল্লীর টিলার এক পাশ ধসে ছড়ায় পড়েছে। এছাড়া উদ্যানের বিভিন্ন টিলায় ছোট ছোট ধস হয়েছে। নিজ থেকে ত্রিপুরা পল্লীর টিলা রক্ষায় এগিয়ে এসেছেন ব্যারিস্টার সুমন। এজন্য আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ।


প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০১৮, ১০:০৪:৫০ অপরাহ্ন



 
Advertise