আজ - বুধবার, ২০ জুন, ২০১৮ ইং | ৬ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |
সর্বশেষ: 

বীরগঞ্জে শশা চাষীরা বিপাকে

বাজারে দাম না থাকায় বীরগঞ্জের শশা চাষীরা লাখ লাখ টাকা লোকশান গুনছে অধিক লাভের আশা সর্বনাশে রূপামত্মরিত হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার উপজেলায় প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে শশার আবাদ হয়। এর মধ্যে সর্বাধিক পলাশবাড়ী ইউনিয়নের পলাশবাড়ী,বা‏হ্মনভিটা, ঝলঝলি মৌজায় ২৫হেক্টর, শিবরামপুর ইউনিয়নের দিঘল পহুরা, ভেলাপুকুর, রথবাজার, আরাজী মিলনপুর মৌজায় ১৫হেক্টর, শতগ্রাম ইউনিয়নের কিসামত খড়িকাদাম, মুচিবাড়ী,রাঙ্গালিপাড়া, নোহাইল, শতগ্রাম, অজুনাহার, মৌজায় ১২হেক্টর এবং পাল্টাপুর, নিজপাড়া, সুজালপুর, মোহম্মদপুর, ভোগনগর, সাতোর, মরিচা ইউনিয়ন সমুহে কিছু কিছু করে আবাদ হয়েছে। অধিক লোভ ও লাভের আশায় সকলে একযোগে আবাদ করে,ফলনও হয়েছে আল­ার রহমতে বাম্পার, ক্ষেতের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দুচোখ জুড়িয়ে যায়, কৃষক ফলন দেখে কত স্বপ্ন বুনে, লাভের টাকা দিয়ে কি কি করবে তারও একটা মোটামুটি তালিকা তৈরী করে ফেলে মনে মনে কিমত্ম সকল স্বপ্নের সুতা ছিড়ে যায়, যখন পাইকাররা শশা কিনতে আসে। ৫০ কেজির ১বসত্মা শশা মাত্র ৫০/- টাকায় বিক্রি করতে কৃষকের কলিজা ফেটে হাহাকার বেরিয়ে আসে।অথচ গত মৌসুমে প্রচুর লাভ হয়েছিল । তাই এবার গতবারের চেয়ে তিন/চারগুন বেশী চাষী আবাদ করেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় কৃষক ছিলো মহা আনন্দে, শশার দাম না পাওয়ায় কৃষক ক্ষেতের আইলে বসে মাথায় হাত দিয়ে ভাবে পরবর্তি ফসল কিভাবে বুনবে, কেউ যদি জিঙ্গেস করে কেমন আছেন ? উত্তর দিতে ইচ্ছে করেনা। উপজেলার মরিচা ইউনিয়নে ভবানীপুর ডাঙ্গারহাট এলাকার কেরামত আলীর পুত্র জামাল বাদশার শশা ক্ষেতে গেলে তিনি জানান গত কয়েক বছর হতে শশা চাষ করে ভাল টাকা মুনাফা করেছি। বিশেষ করে গত বছর এক বিঘা জমিতে শশা চাষ করতে ব্যায় হয়েছিল ৩০ হাজার টাকা। প্রতি কেজি শষা ৬০ থেকে সর্ব নিম্ন ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে খরচের টাকা বাদ দিয়ে ১লাখ ৫০হাজার টাকা মুনাফা হয়েছিল। সেই আশায় এবার এক লক্ষাধিক টাকা ব্যায় করে ৩বিঘা জমিতে শশার চাষ করেছি। বাজারে শশার দাম না থাকার কারনে লাভতো দুরের কথা আসল টাকা ঘরে আনা সম্ভব হবে না। এযাবৎ ৩বিঘা জমির শশা বিক্রির ২০ হাজর টাকা ঘরে এসছে, এক লক্ষ টাকা ক্ষেতেই পড়ে আছে। বর্তমানে ৫০ কেজি শশা ৫০টাকা বিক্রি করতে হচ্ছে। প্রতিদিন এ উপজেলার বিশেষ করে মোহনপুর, মরিচা ও শতগ্রাম ইউনিয়নে ১৫/২০ ট্রাক শশা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে নিয়ে যাচ্ছে। অপর শশা চাষী মরিচা ইউপি সদস্য বজির উদ্দিন আহমেদের পুত্র হুমায়ুন কবীর জানান গত বছর জামাল বাদশার শশা ক্ষেতের লাভের কথা চিমত্মা করে অন্য ফসল মাথা থেকে সরিয়ে শশা চাষের সিদ্ধামত্ম নিয়ে ৬০ হাজার টাকা ব্যায় করে ২ বিঘা জমিতে শশার চাষ করেছি। বাজারে শশার দাম না থাকায় প্রতি কেজি ১/-টাকা দরে ১০ হাজার টাকার শশা বিক্রি করা সম্ভব হয়েছে। শশা চাষের আসল ৫০ হাজার টাকা ক্ষেতেই পরে রয়েছে। শশা চাষীরা জানান সরকারী বা বেসরকারী সংরক্ষনাগার থাকলে তাদের এই লাখ লাখ টাকা লোকসান দিতে হতোনা। তাই জরুরী ভিত্তিতে কাচামাল সংরক্ষনের জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে ১টি করে সংরক্ষনাগার প্রতিষ্ঠার জোর দাবী জানান। উপজেলা কৃষি অফিসার নিখিল চন্দ্র দেবের সাথে যোগা যোগ করা হলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন অধিক ফলন হলেও উপযুক্ত দাম না পাওয়ায় কৃষকরা অপুরণীয় খতির মুখে পড়েছে। তিনি হতাশা ব্যক্তকরেন বলেন এই লোকসানের প্রভাব পরবর্তি ফসলের উপর পড়বে, এবং আগামিতে শশা চাষে নিরুৎসাহিত হবে।

প্রকাশ: ৯ মে ২০১৩, ৯:৫১:৫৪ অপরাহ্ন | সর্বশেষ সম্পাদনা: ৯ মে ২০১৩, ৯:৫২:৩৪ অপরাহ্ন



 
Advertise